পরের সপ্তাহেই ইরানে যৌথ হামলা চালাতে পারে আমেরিকা ও ইজরায়েল, চূড়ান্ত টার্গেট লিস্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে চলা যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর আগামী সপ্তাহেই ইরানে নতুন করে বড়সড় সামরিক হামলা চালাতে পারে আমেরিকা ও ইজরায়েল। সিএনএন-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামলার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই ইজরায়েলি সেনাবাহিনী এবং আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) একটি জরুরি বৈঠক সম্পন্ন করেছে। ওই বৈঠকে ইরানের অভ্যন্তরে ঠিক কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকাও (টার্গেট লিস্ট) চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ব্যর্থ শান্তি চুক্তি ও পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংসের ছক
চলতি উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে তেহরানের সঙ্গে শান্তি সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তির চেষ্টা করা হলেও ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণ কর্তৃত্ব দাবি করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করে দেন। এর ফলে শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তেল আবিব প্রথম দফার যুদ্ধ দ্রুত থামানোর বিপক্ষে ছিল এবং তারা এবার ইরানের পরমাণু কেন্দ্র (নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি), ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা, প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও কম্যান্ড সেক্টরগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য আমেরিকার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
এই সম্ভাব্য হামলার জেরে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রথম দফার যুদ্ধের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ রয়েছে, যেখান থেকে বিশ্বের দৈনিক চাহিদার একটি বড় অংশের তেল সরবরাহ করা হয়। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর। কোনো দেশই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের ঘোষণা না দিলেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
