‘পাতাল থেকেও খুঁজে আনা হবে অপরাধীদের’, বাগনানে নিহত কর্মীর বাড়ি গিয়ে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হাওড়া: বাগনানে নিহত সমাজকর্মী তথা দলীয় কর্মী প্রশান্ত দে-র বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি অপরাধীদের উদ্দেশে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দরকারে অভিযুক্তদের পাতাল থেকেও খুঁজে বের করবে পুলিশ। অপরাধী যে দলেরই বা যে ধর্মেরই হোক, আইন সবার জন্য সমান।”
তদন্ত ও শাস্তিতে কড়া নজর:
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ১০ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ও জেলা পুলিশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি ৪১ জন অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সাফ জানান, “তদন্ত কেবল খুনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অভিযুক্তদের আর্থিক উৎস ও ক্ষমতার দাপটও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।” সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করে নতুন আইনি সংহিতা (BNS) মেনে দ্রুত সাজা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
পরিবারের পাশে সরকার:
প্রশান্ত দে-র অকালপ্রয়াণে অসহায় হয়ে পড়া পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী:
- আর্থিক সাহায্য: জেলা প্রশাসনের ৪ লক্ষ টাকার পাশাপাশি ‘মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল’ থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে।
- সরকারি চাকরি: নিহতের ২২ বছর বয়সী বড় মেয়েকে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
- বার্ধক্য ভাতা: নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য অবিলম্বে বার্ধক্য ভাতা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন’:
পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগে রাজনৈতিক স্বার্থে অপরাধীদের আড়াল করা হতো, যার ফলে সমাজবিরোধীদের আস্ফালন বাড়ত। এখন সেই দিন বদলেছে। তিনি আরও বলেন, “এর আগে কোনো মুখ্যমন্ত্রী আক্রান্তের বাড়িতে গিয়ে নিজে কেস মনিটরিং করেছেন বলে রাজ্যের ইতিহাসে নজির নেই। সাধারণ মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে সরকার বদ্ধপরিকর।”
তদন্তের অংশ হিসেবে জেলাশাসককে বিশেষ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ বা সত্যানুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে অভিযুক্তদের কোনো অবৈধ নির্মাণ বা জবরদখল থাকলে তা চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
