পার্টি অফিস পরিষ্কার করতেই চক্ষু চড়কগাছ! উদ্ধার বস্তা বস্তা সরকারি প্রকল্পের ফর্ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কাটোয়ার মাজিগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে বস্তাভর্তি সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপির এক কর্মীর দোকান দখল করে ওই কার্যালয়টি বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ঘরটি উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয়রা কয়েক হাজার পূরণ করা ফর্মের হদিস পান। বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের এই নথিপত্রগুলো কেন সরকারি দপ্তরে না পাঠিয়ে দলীয় কার্যালয়ে মজুত রাখা হলো, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
দখলকৃত দোকান উদ্ধার ও নথির পাহাড়
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাজিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন অনুপ চৌধুরী নামক এক ব্যক্তির দোকানঘর ২০১৩ সালে জোরপূর্বক দখল করে তৃণমূলের কার্যালয় করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক দশক পর, ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল কর্মীরা এলাকাছাড়া হলে গ্রামবাসীদের সহায়তায় অনুপবাবু নিজের ঘরটি ফিরে পান। ঘর পরিষ্কার করার সময় পাঁচটি বড় বস্তায় ঠাসা কয়েক হাজার সরকারি ফর্ম উদ্ধার হয়। দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ফর্মই ২০২০-২১ সালে পূরণ করা। অর্থাৎ, কয়েক বছর আগে সাধারণ মানুষ সরকারি সাহায্যের আশায় এই নথিগুলো জমা দিলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে পৌঁছায়নি।
প্রশাসনিক গাফিলতি ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ফর্ম জমা নেওয়ার নামে হয়তো অর্থ লেনদেন হয়েছে অথবা ভোটের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নথি বিডিও অফিস বা পঞ্চায়েতের বদলে কেন দলীয় কার্যালয়ে পড়ে রইল, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর এলাকা থেকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই নথিপত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকার বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারি প্রকল্প নিয়ে এমন চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং দলীয় কার্যালয় থেকে প্রশাসনিক নথির হদিস মেলায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার ফলে কাটোয়া মহকুমার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট উত্তপ্ত।
