পাহাড়ে দুর্যোগের ভয়াবহ তাণ্ডব ভেসে গেল সেতু, বিপাকে পর্যটকরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বঙ্গোপসাগর থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশের কারণে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলে শুরু হয়েছে প্রকৃতির রুদ্ররোষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে লাগাতার মুষলধারে বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং ও কালিম্পং সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধস নেমেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাতের জেরে স্থানীয় জনজীবন ও পাহাড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও বিপর্যস্ত পরিবহণ
টানা বর্ষণে হু হু করে জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করেছে বালাসন নদীর। জলের তীব্র তোড়ে কার্শিয়াংয়ের দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ায় শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, ধস নেমে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বিরাট অংশ ভেঙে পড়ায় শিলিগুড়ি-দার্জিলিং রুটেও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুক্রবারের জন্য সমস্ত ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শনিবার থেকে দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে আংশিক টয়ট্রেন চালু হলেও, শিলিগুড়ি পর্যন্ত পুরো রুটে কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
পর্যটকদের জন্য সতর্কতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দিয়েছে প্রশাসন। রাজ্য পর্যটন দপ্তরের তরফে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম এবং ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন নম্বর (১৮০০২১২১৬৫৫ এবং ০৩৫৩২৫১৩৯৮৬) চালু করা হয়েছে। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পর্যটকদের সুরক্ষিত স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শনিবার উত্তরের জেলাগুলিতে রেকর্ড বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ভুটান ও সিকিম পাহাড়ের আকাশে এখনও ঘন কালো মেঘ জমে থাকায় আগামী কয়েকদিন নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প ও সাধারণ পরিবহন ব্যবস্থায় আরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
