পিজি-র ছাদে মর্মান্তিক পৈশাচিকতা! আহমেদাবাদে ছাত্রী ধর্ষণের পর পুলিশের ওপর হামলা, অভিযুক্তের পায়ে গুলি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেগাসিটি আহমেদাবাদ: গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরের অভিজাত আনন্দনগর এলাকায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল এক হাড়হিম করা ঘটনা। একটি পেয়িং গেস্ট (PG)-এর ছাদে এক ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ছাত্রীকে গলায় তার পেঁচিয়ে আটকে রেখে নৃশংসভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই পিজি-রই এক নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে। কেবল অপরাধই নয়, পরবর্তীতে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টারে আহত হয় অভিযুক্ত। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।
ছাদে অন্ধকারে অতর্কিত হামলা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টা নাগাদ তরুণীটি পিজি-র ছাদে হাঁটতে গিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল অভিযুক্ত সিকিউরিটি গার্ড। আহমেদাবাদ সিটি পুলিশের জেসিপি (সেক্টর ১) নীরজ বাদগুজার জানান, “অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীর গলায় শক্ত করে তার পেঁচিয়ে ধরে, যার ফলে তিনি চিৎকার বা সাহায্যের আর্জি জানানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না। সম্পূর্ণ কাবু করে নেওয়ার পর তার ওপর পৈশাচিক অত্যাচার ও ধর্ষণ চালানো হয়।”
অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে তাঁকে ছাদে আটকে রেখে চম্পট দেয়। পরে তরুণী কোনোমতে চিৎকার করলে পিজি-র অন্য বাসিন্দারা এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
৬ দিন আগে কাজে যোগ দিয়েছিল অভিযুক্ত
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম ধরম সিং, বাড়ি উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার মাত্র ৬ দিন আগেই তাকে পিজি-র নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার পরই মোবাইল ফোন বন্ধ করে শহর ছেড়ে পালানোর ছক কষেছিল সে। তবে আহমেদাবাদ পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের যৌথ দল ডজনখানেক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে রবিবার সকালেই হেবাতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
পিস্তল কেড়ে পালানোর চেষ্টা ও এনকাউন্টার
ডিসিপি (জোন ৭) শিবম ভার্মা জানান, রবিবার রাতে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য ধরম সিংকে নিয়ে হেবাতপুর যায় পুলিশ। সেখানে হঠাৎই এক পুলিশ ইন্সপেক্টরের সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। ধস্তাধস্তিতে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। আত্মরক্ষার্থে এবং অভিযুক্তকে থামাতে পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি চালায়, যা অভিযুক্তের পায়ে লাগে।
বর্তমানে আহত অভিযুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চুরি, অস্ত্র আইন এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
