পেট্রোলে ইথানলের কারচুপি! কাঠগড়ায় তেল সংস্থাগুলো?

এবেলা ডেস্কঃ
পেট্রোলে ইথানলের মাত্রা নিয়ে বিতর্ক: রাহুল গান্ধীর অভিযোগ খারিজ তেল সংস্থাগুলির
নিজস্ব প্রতিবেদন: পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কর্ণাটকের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনার ভিত্তিতে তাঁর এই দাবির পর জ্বালানির গুণমান ও ক্রেতাসুরক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
রাহুল গান্ধীর দাবি, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, কোলার, চিক্কাবল্লাপুর, বেঙ্গালুরু গ্রামীণ, রামনগর, মঙ্গলুরু ও তুমাকুরু থেকে সংগৃহীত ১৪টি পেট্রোলের নমুনার মধ্যে ১১টিতেই ইথানলের পরিমাণ ২০ শতাংশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসিএল)-এর একটি নমুনায় ৩১.২ শতাংশ এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের (এইচপিসিএল) একটি নমুনায় ৩০.৫ শতাংশ ইথানল পাওয়া গিয়েছে। শুধু সরকারি সংস্থা নয়, ভারত পেট্রোলিয়াম, নায়ারা এনার্জি ও শেলের মতো বেসরকারি সংস্থার পাম্প থেকেও সংগৃহীত পেট্রোলে মাত্রাতিরিক্ত ইথানল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। রাহুল গান্ধীর মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাইলেজ কমে যাওয়ায় গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এর আগে কর্ণাটক সরকারের খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকও স্বীকৃত পরীক্ষাগারের রিপোর্টের ভিত্তিতে একই অভিযোগ তুলেছিল। তবে এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন তেল সংস্থা—আইওসিএল, বিপিসিএল ও এইচপিসিএল।
যৌথ বিবৃতিতে তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছে, নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। সংস্থাগুলির দাবি, দেশজুড়ে ৮৯৩টি নমুনার পরীক্ষায় ইথানলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। কর্ণাটক থেকে সংগৃহীত ৫৬টি নমুনায় ইথানলের পরিমাণ ১৯ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে ছিল বলে সংস্থাগুলি দাবি করেছে। পাশাপাশি, পুরো পরীক্ষার রিপোর্ট, নমুনা সংগ্রহের নথি এবং পুনরায় স্বাধীনভাবে নমুনা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে E20 (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) কর্মসূচি চালু করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মিশ্রণ সাধারণ গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বর্তমানে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ এবং তেল সংস্থাগুলির পাল্টা দাবির মুখে জ্বালানির মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।
