‘প্রশ্ন করলেই জুটছে লাঠি, ক্ষমতাশালীরা আসলে বড্ড ভীত!’ মোদী সরকারকে তুলোধোনা ঋদ্ধি সেনের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষাব্যবস্থায় বেনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় এবার তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাঙালি অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন কেন্দ্র সরকারকে। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তুললেই যদি পড়ুয়াদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য চরম অশনিসংকেত।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- আন্দোলনে ধুন্ধুমার: সোমবার পড়ুয়াদের সংসদ অভিযান ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
- সরব ঋদ্ধি সেন: পুলিশি হামলার কড়া সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট অভিনেতার।
- সরকারকে তোপ: লাঠিচার্জ ও ব্যারিকেড আসলে সরকারের দুর্বলতা ও ভয়ের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি ঋদ্ধির।
কী লিখেছেন ঋদ্ধি সেন?
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সরকার ও প্রশাসনকে সরাসরি নিশানা করেছেন অভিনেতা। তিনি লেখেন, “ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে প্রশ্ন তুলতে নামে, আর আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই যদি তাদের ওপর হিংসা নেমে আসে, তাহলে বুঝতে হবে ক্ষমতায় থাকা মানুষগুলো ভয়ের মধ্যেই বাস করছে।”
সরকারের সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঋদ্ধি আরও বলেন, “বড় বড় দাবি করলেই সাহস প্রমাণ হয় না, বরং মানুষের প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়ানোর ক্ষমতাই প্রকৃত সাহস।”
‘লাঠিচার্জ সরকারের দুর্বলতার প্রমাণ’
আন্দোলনকারীদের রুখতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ব্যারিকেড তৈরি করাকে সরকারের ‘ভয়’ হিসেবেই দেখছেন অভিনেতা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যারা সত্যকে ভয় পায়, তারাই ব্যারিকেড তৈরি করে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করে। ঋদ্ধির কথায়, “প্রতিটি লাঠিচার্জ, প্রতিটি টিয়ার গ্যাস, প্রতিটি বাধাই প্রমাণ করছে ক্ষমতাসীনদের ভয় কতটা গভীর। আজ এই দেশের ছাত্রছাত্রীরা রক্ত ঝরিয়েও প্রশ্ন করা বন্ধ করেনি। তারা বিশ্বাস করে প্রকৃত দেশপ্রেম মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।”
জন্তর মন্তরের বর্তমান পরিস্থিতি
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিট (NEET) সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে জন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ। সোমবার তাঁদের সংসদ অভিযানের ডাক ঘিরেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার নেয়। এই একই মঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে অনশনে বসে রয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সম্প্রতি আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করলেও, সমাধান সূত্র মেলেনি।
ঋদ্ধি সেনের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই অভিনেতার এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্নমতও পোষণ করেছেন। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, দিল্লির ছাত্র আন্দোলন এখন আর শুধু শিক্ষাব্যবস্থার গণ্ডিতে আটকে নেই, তা দেশজুড়ে এক বড়সড় রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়নের জন্ম দিয়েছে।
