প্রাক্তন ‘মিস পুণে’র রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় বিচারক ও আইনজীবী পরিবার! – এবেলা

প্রাক্তন ‘মিস পুণে’র রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় বিচারক ও আইনজীবী পরিবার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিয়ে হয়েছিল মাত্র পাঁচ মাস আগে। পেশায় আইনজীবী স্বামী আর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শাশুড়ির ‘হাই প্রোফাইল’ পরিবারে ঘর বেঁধেছিলেন ৩৩ বছরের উচ্চশিক্ষিত তরুণী তথা প্রাক্তন ‘মিস পুণে’ তিশা শর্মা। কিন্তু সেই জাঁকজমকের আড়ালে যে চরম মানসিক যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল, তা সামনে এল তরুণীর মৃত্যুর পর। ভোপালের কাটারা হিলসের শ্বশুরবাড়ি থেকে তিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর আগের দিনই মাকে পাঠানো তিশার শেষ বার্তা ছিল, “এখানে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে।”

একাকীত্ব ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বাধা

এমবিএ করার পর মুম্বই ও দিল্লির কর্পোরেট সংস্থায় সফলভাবে কাজ করেছিলেন তিশা। মডেলিং দুনিয়ায় ‘মিস পুণে’ খেতাব জয়, তেলেগু ছবিতে অভিনয় কিংবা যোগা প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর একটি স্বাধীন পরিচয় ছিল। ২০২৪ সালে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আইনজীবী সম্রাট সিংয়ের সঙ্গে আলাপের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিশার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই তরুণীকে কার্যত গৃহবন্দি করে ফেলা হয়েছিল। মাকে পাঠানো একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তিশা লিখেছিলেন, তাঁর জীবন নরক হয়ে উঠেছে এবং স্বামী তাঁর সাথে কথাই বলেন না। ঘরে বসে থাকার কারণে গভীর অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।

তদন্ত ও প্রভাবশালী তত্ত্বের প্রভাব

ভোপাল এইমসের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও তিশার পরিবার এটিকে পরিকল্পিত খুন বলে দাবি করছে। মৃতার বাবা নবনিধি শর্মার অভিযোগ, প্রভাবশালী পরিবার হওয়ায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কারচুপি করা হয়ে থাকতে পারে। তাই তাঁরা দিল্লি এইমসে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের আশায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পুলিশ ইতিমধ্যে স্বামী সম্রাট সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা রুজু করে তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে। তবে পরিবারের প্রভাব খাটানোর অভিযোগকে সত্যি প্রমাণ করে অভিযুক্ত মা-ছেলে আগাম জামিন নিয়ে আপাতত পলাতক। পুলিশ তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনে পুরস্কার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনাটি উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত পরিবারগুলিতেও নারীর মানসিক নির্যাতন ও গার্হস্থ্য হিংসার এক ভয়ঙ্কর রূপকে পুনরায় সামনে এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *