প্রাপ্তবয়স্কদের মডেল থেকে দুর্ধর্ষ ডুবুরি, নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য! – এবেলা

প্রাপ্তবয়স্কদের মডেল থেকে দুর্ধর্ষ ডুবুরি, নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাল্টিক সাগরের তলদেশে রাশিয়ার ২০০০ কোটি ডলার মূল্যের ‘নর্ড স্ট্রিম’ গ্যাস পাইপলাইন ধ্বংসের ঘটনায় এবার উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর নাম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুঃসাহসিক নাশকতামূলক অভিযানের কেন্দ্রে ছিলেন ‘ফ্রেয়া’ ছদ্মনামের এক তরুণী। একসময় ইউক্রেনের রাজধানী কিভে প্রাপ্তবয়স্কদের মডেল হিসেবে কাজ করলেও, পরবর্তীকালে তিনি হয়ে ওঠেন একজন অত্যন্ত দক্ষ ‘টেকনিক্যাল ডাইভার’। আর এই অসামান্য ডাইভিং দক্ষতাই তাঁকে এই বিপজ্জনক গোপন অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত করে।

গভীর সমুদ্রের রহস্যময় অভিযান

ছোটবেলা থেকেই প্রাণবন্ত ফ্রেয়া বিশের কোঠায় পা দিয়ে ডাইভিংয়ের প্রেমে পড়েন এবং দ্রুত এমন গভীরতায় সাঁতার কাটতে শুরু করেন যা তাবড় ডুবুরিদেরও সাধ্যের অতীত। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা যখন একটি গোপন সামরিক অভিযানের জন্য দক্ষ বেসামরিক ডুবুরি খুঁজছিলেন, তখন তাঁদের নজরে আসেন ফ্রেয়া। প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাল্টিক সাগরের ৮০ মিটার গভীরে নামতে যখন দলের অন্য সদস্যরা দ্বিধাগ্রস্ত, তখন ফ্রেয়া একাই এই দুঃসাহসিক কাজের দায়িত্ব নিতে চেয়ে তাঁর নির্ভীক মনোভাবের প্রমাণ দিয়েছিলেন। অবশেষে গভীর সমুদ্রে নেমে পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরক স্থাপন করেন ডুবুরিরা।

বিস্ফোরণের কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব

রাশিয়া থেকে পশ্চিম ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রধান মাধ্যম ছিল এই নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মস্কো এই সরবরাহ বন্ধ করে দিলে ইউরোপ চরম জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে এবং মহাদেশটিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এই পাইপলাইন ধ্বংস করে রাশিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি কূটনীতিতে বড়সড় আঘাত হানাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। জলের নীচে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে পাইপলাইনটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ার পর জার্মান তদন্তকারীরা একটি প্রমোদতরী থেকে ডিএনএ ও চুলের নমুনা উদ্ধার করেন, যা ফ্রেয়ার বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও ফ্রেয়া এই নাশকতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বর্তমানে তিনি ইউক্রেনের একটি নিরাপত্তা ইউনিটে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পুরো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক স্তরে এখনও এক বড় রহস্য হয়েই রয়ে গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *