প্রি-ওয়েডিং শুটে হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ফেলল তরুণী, প্রকাশ্যে ক্যাফেতে খুনের ছক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল তরুণ ব্যবসায়ী কেতন বিশাল আগরওয়ালের। ৩৫০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, হবু স্বামী কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন তাঁরই বাগদত্তা সিয়া গোয়েল। আগামী নভেম্বরে তাঁদের রাজকীয় বিয়ের জন্য ১৭ কোটি টাকা দিয়ে প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস খুনের ব্লুপ্রিন্ট
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসে খুনের ঠিক আগের দিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজ, যা পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফুটেজে দেখা যায়, সিয়া গোয়েল তাঁর প্রেমিক চেতনের সঙ্গে ‘থার্ড ওয়েভ’ নামের একটি ক্যাফেতে প্রায় এক ঘণ্টা একান্তে বৈঠক করছেন। ক্যাফের ভিড় থেকে দূরে বসে তাঁদের অতি গোপনীয় শারীরিক ভাষা দেখেই পুলিশের অনুমান, সেখানেই কেতনকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চূড়ান্ত ছক কষা হয়েছিল। প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা এবং এই বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদেই সিয়া এমন চরম পথ বেছে নেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
গ্রীষ্মের দুপুরে হুডি পরা যুবক ও পুলিশের জালে অপরাধী
লোহাগড় দুর্গের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, কেতন ও সিয়ার গাড়িকে অনুসরণ করছেন এক সন্দেহভাজন যুবক। ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভ্যাপসা গরমে তাঁর গায়ে ছিল একটি হুডি, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ একধাক্কায় বাড়িয়ে দেয়। আশপাশের ফুটেজ মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই যুবকই হলেন চেতন। এরপর কল রেকর্ড, সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং বয়ানের অসঙ্গতি সামনে রেখে সিয়াকে জেরা করা হলে চাপের মুখে তিনি খুনের কথা স্বীকার করে নেন। এই অপরাধের জেরে একটি বিলাসবহুল বিয়ের আসর পরিণত হয়েছে অপরাধের তদন্তমঞ্চে এবং সমাজে সম্পর্কের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
