প্রেমে প্রত্যাখ্যান, প্রকাশ্য রাস্তায় তরুণীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন, গণপিটুনিতে মৃত্যু অভিযুক্তেরও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তেলঙ্গানার মেহবুবনগরে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এক তরুণীকে প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তবে এই ঘটনার পরপরই আইন নিজের হাতে তুলে নেন স্থানীয় জনতা। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত যুবকেরও। এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুরনো আলাপ ও একতরফা প্রেমের জের
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ২১ বছর বয়সি তরুণী বৈষ্ণবী মেহবুবনগরের একটি স্কুলের রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি হায়দরাবাদের একটি স্কুলে কাজ করার সময় ৩০ বছর বয়সি যুবক তেজার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তেজা তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে বৈষ্ণবী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়। অভিযোগ, প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তেজ বিভিন্নভাবে বৈষ্ণবীকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং তাঁর পিছু নিতেন। সম্প্রতি বৈষ্ণবীর বাগদান সম্পন্ন হওয়ার খবর জানতে পেরেই তেজা হিংস্র হয়ে ওঠেন এবং এই চরম পদক্ষেপ নেন।
প্রকাশ্য রাস্তায় হামলা ও গণরোষ
গত শনিবার বৈষ্ণবী যখন অটো থেকে নামছিলেন, ঠিক তখনই তেজা আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলায় ছুরিকাঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখে উপস্থিত পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্ত তেজাকে তাড়া করে ধরে ফেলেন এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় তেজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সামাজিক উদ্বেগ
এই ঘটনাটি সমাজে নারীদের নিরাপত্তা এবং প্রকাশ্য রাস্তায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একতরফা প্রেমের জেরে উন্মাদের মতো আচরণের কারণে যেমন একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল, ঠিক তেমনই অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনাটি বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সামাজিক সহনশীলতার অভাবকে নির্দেশ করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
