‘ফলাফল নির্ধারিত, শুধু ঘোষণার অপেক্ষা’, জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত দিলীপ ঘোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে মেজাজি মেজাজেই ধরা দিলেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। সোমবার সকালে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলার মানুষ যে রায় দিয়েছেন তা ইতিমধ্যেই ইভিএম-বন্দি হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, “ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। বিজেপি বিপুল আসন নিয়ে বাংলায় সরকার গড়তে চলেছে।”
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের মূল নির্যাস:
- পরিবর্তন অনিবার্য: দিলীপ ঘোষের মতে, বাংলার মানুষ আর ‘পুরানো শাসন’ চাইছেন না। তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। নতুন সরকার বাংলাকে ভারতের মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করবে; বাংলাকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের পথে হাঁটতে দেওয়া হবে না।”
- আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তোপ: শাসকদলকে বিঁধে তিনি বলেন, “এতদিন বাংলায় আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু ছিল না। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সাধারণ মানুষ আইনের শাসন অনুভব করছেন।” কোনো প্রাণহানি ছাড়াই ৯২% ভোটদান সম্পন্ন হওয়াকে তিনি কমিশনের সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- ভোটদানের অধিকার পুনরুদ্ধার: অতীতে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, “গত ১৫ বছর ধরে বহু মানুষকে বিশেষ করে মহিলাদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। এবার তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে এসে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আর এই বিপুল ভোটদানই বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।”
এক্সিট পোল ও বর্তমান লড়াই
যদিও ‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’ বা ‘ম্যাট্রাইজ’-এর মতো সমীক্ষাগুলো বিজেপিকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে, তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই যে ‘নেক-টু-নেক’ বা হাড্ডাহাড্ডি, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। বিজেপি যখন ১৪৮-এর ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, তৃণমূল তখন তাদের গ্রামীণ ভোটব্যাংক ও জনমুখী প্রকল্পের ওপর ভরসা করে চতুর্থবার প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছে।
গণনা কেন্দ্রের চিত্র
কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে ভবানীপুরের শাখাওয়াত মেমোরিয়াল—প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে কড়া নিরাপত্তা। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য যখন রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে, তখন বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইভিএমের তথ্য বলছে লড়াই হবে প্রতি ইঞ্চিতে। শেষ হাসি কে হাসবেন—দিলীপের ভবিষ্যৎবাণী মিলবে নাকি মমতার ম্যাজিক কাজ করবে, তা জানতে নজর এখন স্ক্রিনের দিকে।
