ফল ঘোষণার আগেই ব্যারাকপুরে বিস্ফোরণ! রাজের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানির মারাত্মক অভিযোগ কৌস্তভের

ফল ঘোষণার আগেই ব্যারাকপুরে বিস্ফোরণ! রাজের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানির মারাত্মক অভিযোগ কৌস্তভের

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরেই খুলবে ইভিএম এবং নির্ধারিত হবে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। কিন্তু ভোট গণনার ঠিক আগের রাতেই চরম উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সরাসরি দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন ওই কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ পোস্ট করে বিরোধী শিবিরের এই দাবিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যদিও এই অডিও বার্তার সত্যতা এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভাইরাল অডিও ঘিরে চরম রাজনৈতিক তরজা

বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর পোস্ট করা ওই বিতর্কিত অডিও বার্তায় দাবি করা হয়েছে যে, তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী দলের দুষ্কৃতী বাহিনী ও গুন্ডাদের কাজে লাগিয়ে এলাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দাঙ্গা এবং অশান্তি লাগানোর চেষ্টা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল ঐতিহাসিকভাবেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং দলীয় কোন্দলের জন্য পরিচিত। সেই স্পর্শকাতর প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বিরোধী প্রার্থীর এমন গুরুতর ও প্রত্যক্ষ অভিযোগ এলাকার রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রাক্কালে এই ধরনের অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এলাকার সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের জেরে ভোট গণনার দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে গোটা ব্যারাকপুর অঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক হিংসা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং গণনাকেন্দ্র সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনকে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগ প্রমাণিত হোক বা না হোক, গণনার ঠিক আগে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং কড়া নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *