বছরে ১.৭ কোটির বেতন, দিতে হয় না এক পয়সাও ট্যাক্স! মহিলা পাইলটের রাজকীয় জীবন দেখে চোখ কপালে নেটিজেনদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: আকাশে ওড়ার স্বপ্ন কার না থাকে? আর সেই স্বপ্নকে যদি পেশা বানিয়ে প্রতি মাসে কোটি টাকা আয় করা যায়, তবে কেমন হয়? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের স্বপ্নের চাকরি এবং তার রাজকীয় সুযোগ-সুবিধার কথা শেয়ার করে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন এক ভারতীয় মহিলা পাইলট। বিশ্ববিখ্যাত ‘ইতিহাদ এয়ারওয়েজ’ (Etihad Airways)-এর সিনিয়র ফার্স্ট অফিসার নিকিতা তোমর নিজের ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরেছেন তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাত্রার এক রোমাঞ্চকর খতিয়ান।
নিকিতার শেয়ার করা তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়টি হলো তাঁর ‘ট্যাক্স-ফ্রি’ বা আয়কর মুক্ত বেতন। ভারতে মোটা অঙ্কের উপার্জনের একটা বড় অংশ যেখানে সরকারকে ট্যাক্স হিসেবে দিতে হয়, সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-তে উপার্জিত অর্থের ওপর এক পয়সাও ট্যাক্স দিতে হয় না। অর্থাৎ, বেতনের প্রতিটি টাকা সরাসরি নিজের পকেটে ঢোকে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, একজন পাইলটের বেতন তাঁর অভিজ্ঞতা ও বিমানের মডেলের ওপর নির্ভর করে। একজন ‘ফার্স্ট অফিসার’ বছরে প্রায় ১.৩ কোটি টাকা পান। আর পদোন্নতি পেয়ে যখন কেউ ‘ফ্লাইট ক্যাপ্টেন’ হন, তখন তাঁর বার্ষিক বেতন দাঁড়ায় ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৭ কোটি টাকা!
পাইলটের চাকরিতে আর কী কী রাজকীয় সুবিধা মেলে?
- পরিবারের জন্য বিজনেস ক্লাস: শুধু পাইলট নিজেই নন, তাঁর বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিখরচায় অথবা বিপুল ছাড়ে ‘বিজনেস ক্লাস’-এ ভ্রমণ করতে পারেন।
- বিশ্বভ্রমণ ও সেভেন স্টার হোটেল: ডিউটির অংশ হিসেবে নিকিতাকে টোকিও, প্যারিস, স্পেন বা নিউ ইয়র্কের মতো শহরে যেতে হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের বিলাসবহুল হোটেলে থাকার রাজকীয় ব্যবস্থা করে কো ম্পা নিই। পাশাপাশি শহর ঘুরে দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়।
- বিনামূল্যে বাড়ি, পড়াশোনা ও চিকিৎসা: আবুধাবিতে থাকার সম্পূর্ণ খরচ কো ম্পা নি বহন করে। পাইলট চাইলে কো ম্পা নির দেওয়া আবাসনে থাকতে পারেন অথবা নিজের পছন্দমতো বাড়ি ভাড়া নিলে তার এলাউন্স পেয়ে যান। এ ছাড়া, সন্তানদের পড়াশোনার পুরো খরচ এবং পরিবারের সমস্ত সদস্যের জন্য প্রিমিয়াম মেডিকেল ইন্স্যুরেন্সের সুবিধাও দেয় সংস্থাটি।
বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশের কর্মীদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিকিতা জানান, আবুধাবি বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শহর। চমৎকার আবহাওয়া এবং চোখ জুড়ানো সমুদ্রসৈকতের কারণে ভিনদেশের মানুষও এখানে এসে নিজেদের ঘরের মতো স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান। নিকিতার এই রাজকীয় লাইফস্টাইল দেখে লাখো তরুণ-তরুণী এখন পাইলট হওয়ার অনুপ্রেরণা খুঁজছেন।
