বড় জয় চাকরিহারা শিক্ষকদের! ৬% সুদসহ বার্ষিক দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের – এবেলা

বড় জয় চাকরিহারা শিক্ষকদের! ৬% সুদসহ বার্ষিক দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) পরিচালিত স্কুল থেকে অন্যায্যভাবে ছাঁটাই হওয়া পার্শ্বশিক্ষকদের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। চাকরিহারা শিক্ষকদের ৬ শতাংশ সুদসহ বছর পিছু ১.৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ডিএসপি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ মিটিয়ে দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিলে জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত আরও ৬ শতাংশ হারে সুদ গুণতে হবে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষকে।

প্রেক্ষাপট ও ছাঁটাই বিতর্ক: প্রায় ৫৬ বছর আগে পথচলা শুরু করেছিল দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অধীনস্থ দুর্গাপুর ইস্পাত হাইস্কুল এবং শিবাজী রোড ডিএসপি বয়েজ হাইস্কুলসহ একাধিক বিদ্যালয়। সিবিএসই ও পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ অনুমোদিত এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি—তিনটি মাধ্যমেই পঠনপাঠন চলত। ২০০৯ সালে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এই স্কুলগুলিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৪৫ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। শুরুতে তাঁদের প্রতিদিনের হিসেবে ১৫০ টাকা বেতন দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়।

কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আচমকা ১৬ জন শিক্ষককে কাজ থেকে বের করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বিদ্যালয়গুলি পুরোপুরি বন্ধই করে দেওয়া হয়।

আইনি লড়াই ও হাইকোর্টের নির্দেশ: চাকরি হারিয়ে শিক্ষকরা প্রথমে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যালে (CAT) দ্বারস্থ হন। কিন্তু ২০২৫ সালে ‘ক্যাট’ শিক্ষকদের আর্জি খারিজ করে দিলে তাঁরা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন।

মামলাকারীদের আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০১৫ সালে স্কুল বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকরা যত বছর কাজ করেছেন, সেই অনুযায়ী ৬% সুদসহ বছর পিছু ১.৫ লক্ষ টাকা করে হিসাব করে ডিএসপি কর্তৃপক্ষকে মেটাতে হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে সুদের বোঝা আরও বাড়বে। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর হাইকোর্টের এই রায়ে বড় স্বস্তি পেলেন বঞ্চিত শিক্ষকেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *