বদলু মেজাজে বাংলা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পর এবার রাজ্যে আসছে ‘পিএম শ্রী’ স্কুল, সই হলো মউ – এবেলা

বদলু মেজাজে বাংলা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পর এবার রাজ্যে আসছে ‘পিএম শ্রী’ স্কুল, সই হলো মউ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড়সড় বদলের হাওয়া লাগতে চলেছে। রাজ্যে পূর্বতন সরকারের আপত্তির পর অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে ‘পিএম শ্রী’ (PM SHRI) স্কুল কর্মসূচি কার্যকর করার বিষয়ে সমঝোতাপত্র বা মউ (MoU) স্বাক্ষর করল নতুন রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় স্কুল শিক্ষা দফতরের সচিব সঞ্জয় কুমার এবং রাজ্য সরকারের দুই সচিব ধীরজ সাহু ও বিনোদ কুমারের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর ফলে রাজ্যে এই বিশেষ আধুনিক স্কুল প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা রইল না।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে স্কুলগুলোর পরিকাঠামো এবং পঠন-পাঠনের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পিএম শ্রী প্রকল্প চালু করেছিল মোদী সরকার। কিন্তু জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতা এবং কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি না করায় পশ্চিমবঙ্গে এতদিন এই প্রকল্প থমকে ছিল। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই এই অচলাবস্থা কাটল।

শিক্ষার আধুনিকীকরণ ও উন্নত পরিকাঠামো

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সরকারি স্কুলগুলোর ভোলবদল ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। পিএম শ্রী স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুলভ মূল্যে আধুনিক এবং উন্নত মানের শিক্ষার পরিবেশ পাবে। ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিকে (NEP) মান্যতা দিয়ে তৈরি এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো স্কুলগুলোতে অত্যাধুনিক ল্যাব, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা। রাজ্যের বহু সরকারি স্কুল বর্তমানে পরিকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে, যা এই প্রকল্পের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হবে।

বাস্তবায়নের গতি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

শিক্ষা মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশজুড়ে মোট ১৪ হাজার ৫০০টিরও বেশি স্কুলের মানোন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১৩ হাজার ৯১টি স্কুলকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মাত্র ৬০টি স্কুলে এই কাজ হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৬টি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং ১৪টি নবোদয় বিদ্যালয় ছিল। অর্থাৎ, রাজ্যের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো স্কুলে এতদিন এই সুবিধা পৌঁছায়নি।

এবার মউ স্বাক্ষরের ফলে রাজ্যের বহু প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, সেকেন্ডারি এবং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল পিএম শ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাবে। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় অনুদানের সঠিক ব্যবহারে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *