বদলের বাংলায় আরও একা অনুব্রত, এবার পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো নিরাপত্তা! – এবেলা

বদলের বাংলায় আরও একা অনুব্রত, এবার পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো নিরাপত্তা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একদা বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা, যাকে জেলার রাজনীতির ‘বাঘ’ বলে অভিহিত করা হতো, সেই অনুব্রত মণ্ডল এখন কার্যত নিঃসঙ্গ। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর ওয়াই প্লাস (Y+) নিরাপত্তা আগেই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এবার তাঁর সুরক্ষায় থাকা রাজ্য পুলিশের শেষ তিনজন জওয়ানকেও সরিয়ে নিল জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে এই পদক্ষেপের পর থেকে এখন সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়লেন এই প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি।

ক্ষমতার পতন ও নিঃসঙ্গতা

তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি সর্বোচ্চ স্তরের সরকারি নিরাপত্তা উপভোগ করেছেন। বোলপুরের নীচুপট্টির বাড়িতে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা ছাড়াও বন্দুকধারী বিশেষ বাহিনী সর্বদা তাঁকে ঘিরে রাখত। তবে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁর সেই প্রতিপত্তিতে ধস নামে। প্রথমে বড় নিরাপত্তাবলয় তুলে নিয়ে মাত্র দুজন সশস্ত্র রক্ষী ও বাড়ির জন্য একজন পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে সেই ব্যবস্থাও পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়া হলো।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পেছনে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ক্ষমতার বদল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই পূর্বতন শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার নিরাপত্তা ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার সর্বশেষ শিকার অনুব্রত। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে গেছে এবং বিজেপি সেখানে বড় জয় পেয়েছে। নির্বাচনের পর থেকেই নীচুপট্টির বাড়ি থেকে অনুব্রত মণ্ডলের বাইরে বের হওয়া প্রায় বন্ধ। একসময়ের গমগমে দলীয় কার্যালয় ও বাড়ির সামনে এখন আর অনুগামীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে না।

সরকারি নিরাপত্তা সম্পূর্ণ চলে যাওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ মহল এখন ব্যক্তিগত স্তরে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী (বাউন্সার) নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে। তবে এই আকস্মিক নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনুব্রত মণ্ডলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পর বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং একে অনুব্রতের রাজনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত প্রান্তিকীকরণ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *