বন্দে মাতরম বিতর্ক: কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব পার্সোনাল ল বোর্ড, আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি! – এবেলা

বন্দে মাতরম বিতর্ক: কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব পার্সোনাল ল বোর্ড, আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্তৃক ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-র সমমর্যাদা প্রদান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর গায়ন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায়, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বোর্ড।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের ঠিক আগেই বন্দে মাতরম গাইতে হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গানটির সকল স্তবক পাঠ করা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন

মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধানের মূল চেতনা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বোর্ডের মুখপাত্র এসকিউআর ইলিয়াস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় ধারণা সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ অগণতান্ত্রিক এবং দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ওপর আঘাত।

ইসলামী শরিয়াহ ও বিশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্দে মাতরমের বিভিন্ন ছত্রে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য দেবীর বন্দনা করা হয়েছে। ইসলামের ‘তৌহিদ’ বা একত্ববাদের মূল নীতি অনুযায়ী, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত বা উপাসনা করা নিষিদ্ধ। ফলে এই গান গাওয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসের সরাসরি বিরোধী বলে তারা মনে করছেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও আইনি লড়াই

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দফতরগুলোতে গানটির প্রয়োগ নিয়ে সামাজিক মেরুকরণ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকার অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে তারা সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবে। এই আইনি লড়াই দীর্ঘমেয়াদী বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *