বাংলায় কার রাজত্ব? কেউ বলছে দিদি, কেউ বলছে মোদী—বুথ ফেরত সমীক্ষায় তীব্র ধোঁয়াশা!

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ২৯ এপ্রিল বাংলায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ ভোটযুদ্ধের অবসান ঘটে। ভোট শেষ হতেই সামনে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। যদিও এই সমীক্ষাগুলো কেবলই সম্ভাব্য আভাস, চূড়ান্ত ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে ভোটগণনার পর।
বাংলা ও আসামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। বিভিন্ন সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পি-মার্ক এবং ম্যাটরাইজ-এর মতো সংস্থাগুলো রাজ্যে বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও পিপলস পালসের সমীক্ষায় তৃণমূলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, আসামের ১২৬টি আসনের লড়াইয়ে অধিকাংশ সমীক্ষাই বর্তমান বিজেপি জোটকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে, যেখানে কংগ্রেস জোটের ফল আশানুরূপ না হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণের রাজ্যে পরিবর্তনের সুর
কেরল ও তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। কেরলে ১৪০টি আসনের মধ্যে এলডিএফ এবং ইউডিএফ জোটের মধ্যে সরাসরি সংঘাত লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সমীক্ষক সংস্থাগুলো ইউডিএফ-কে সামান্য সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের লড়াইয়ে ডিএমকে জোট এআইএডিএমকে-র তুলনায় অনেকটা এগিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আঞ্চলিক দলগুলোর প্রাধান্য ও জোটের রাজনীতির প্রভাবেই এই রাজ্যগুলোতে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী এই উত্তাপ এখন ৪ মের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায়। এক্সিট পোলের এই পরিসংখ্যান সত্যি হলে যেমন কোনো কোনো রাজ্যে দীর্ঘদিনের শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন আসবে, তেমনি অনেক রাজ্যে বর্তমান শাসকদল তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হবে। তবে ভোটারদের প্রকৃত রায় ইভিএমের ভেতর থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরল ও তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
- বাংলার ২৯৪টি আসনে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সরকার গড়ার লড়াইয়ে মিশ্র আভাস দিচ্ছে এক্সিট পোল।
- আসাম ও তামিলনাড়ুতে যথাক্রমে বিজেপি ও ডিএমকে জোট এগিয়ে থাকার প্রবল সম্ভাবনা।
- আগামী ৪ মে ভোটগণনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এই চার রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
