বাংলার রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার পথে ‘দিদি’! ২০২৬-এ জিতলে মোদী-নবীনদের পাশে বসবেন মমতা?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করলে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টানা চারবার ক্ষমতায় থাকার বিরল নজির গড়বেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে শাসনভার সামলানোর এই সম্ভাবনা তাঁকে ভারতীয় রাজনীতির এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
রেকর্ডের পথে তৃণমূল নেত্রী
এই সম্ভাব্য জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর থেকেও এগিয়ে দেবে। মায়াবতী চারবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও তাঁর শাসনকাল কখনও একটানা ছিল না। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে জয়ী হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটানা ২০ বছর পূর্ণ করে পবন কুমার চামলিং, নবীন পট্টনায়ক এবং জ্যোতি বসুর মতো দীর্ঘমেয়াদী মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় নিজের নাম খোদাই করবেন। বাংলার রাজনীতিতে জ্যোতি বসুর ২৩ বছরের একাধিপত্যের পর তিনিই হবেন দ্বিতীয় কোনো নেতা, যিনি দুই দশকের মাইলফলক স্পর্শ করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।
প্রভাব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ভারতীয় রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের জন্য এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। ২০২৬-এর ফলাফল নির্ধারিত করবে তিনি নবীন পট্টনায়ক বা মানিক সরকারের মতো দীর্ঘমেয়াদী শাসকদের পংক্তিভুক্ত হতে পারবেন কি না। তাঁর এই জয় একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তিকে সুসংহত করবে, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন মমতার বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অগ্নিপরীক্ষা ও সুযোগ।
এক ঝলকে
রাজনৈতিক জীবনের এই সন্ধিক্ষণ নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে।
২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা চারবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়বেন।
টানা ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় নাম লেখাবেন।
এই জয় তাঁকে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর অর্জিত রেকর্ডের চেয়েও এগিয়ে দেবে।
