বাইক-মহিষ ও ৫০ হাজার টাকা! যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বের করে দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন স্বামী- এবেলা

বাইক-মহিষ ও ৫০ হাজার টাকা! যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বের করে দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলেন স্বামী- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের গাজীপুর জেলায় যৌতুকের করাল গ্রাস কেড়ে নিল একটি পরিবারের সুখ। বাইক, মহিষ এবং নগদ ৫০ হাজার টাকার দাবি পূরণ করতে না পারায় এক গৃহবধূকে তাঁর শিশুসন্তানসহ ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে আইনি বিচ্ছেদ বা তালাক না দিয়েই ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে পুলিশ সুপার বা এসপির নির্দেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

যৌতুকের দাবি ও দীর্ঘস্থায়ী নির্যাতন

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের গাজীপুর জেলার সৈদপুর থানার মির্জাপুর গ্রামের। ২০০৪ সালে প্রদীপ যাদব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে হয় হিন্দু রীতি মেনে। বিয়ের সময় কনের পরিবার সাধ্যমতো যৌতুক দিলেও তাতে সন্তুষ্ট ছিল না প্রদীপের পরিবার। বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই বাইক, একটি মহিষ এবং নগদ ৫০ হাজার টাকার জন্য গৃহবধূর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। শত অত্যাচার সহ্য করেও মহিলা সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। ২০০৬ সালে তাঁদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

নির্বাসন ও বিনা তালাকেই দ্বিতীয় বিয়ে

নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, ২০১১ সালে অভিযুক্ত স্বামী তাঁর স্ত্রীর সমস্ত গয়না ও জামাকাপড় কেড়ে নিয়ে তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বাধ্য হয়ে ওই মহিলা বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরই মধ্যে ২০২০ সালে মহিলা জানতে পারেন যে, প্রদীপ তাঁকে কোনো আইনি বিচ্ছেদ না দিয়েই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবর পেয়ে মহিলা শ্বশুরবাড়িতে অধিকার দাবি করতে গেলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিচার পেতে উচ্চপদস্থ কর্তার দ্বারস্থ

অভিযোগ উঠেছে, প্রথমে স্থানীয় থানায় গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ওই মহিলা। স্থানীয় পুলিশ তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করতে টালবাহানা শুরু করে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী মহিলা সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে নিজের অসহায়তার কথা জানান এবং বিচার প্রার্থনা করেন। এসপির কড়া নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় থানা। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী প্রদীপ যাদবসহ পরিবারের মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধক আইন ও নির্যাতনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

সামাজিক প্রভাব ও আইনি জটিলতা

এই ঘটনাটি বর্তমান সমাজেও যৌতুক প্রথার ভয়াবহ রূপ তুলে ধরেছে। আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় এবং বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী মহিলার দীর্ঘ দুই দশকের লড়াই শেষ পর্যন্ত আইনি মোড় নিল। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে কতটা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং অসহায় মহিলা তাঁর সামাজিক ও আইনি অধিকার ফিরে পান কি না।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বিতাড়িত।
  • স্বামী প্রদীপ যাদব স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই ২০২০ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
  • বাইক, মহিষ এবং ৫০ হাজার টাকার দাবিতে চলত লাগাতার অত্যাচার।
  • দীর্ঘ দিন স্থানীয় থানায় অভিযোগ না নেওয়ায় এসপির দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী।
  • বর্তমানে স্বামীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *