‘বাইরে থেকে লোক এনে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে বিজেপি’, ভোটের ময়দানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় গণতন্ত্রের উৎসব ম্লান হয়ে এল চরম সহিংসতায়। বুধবার ভোটের শুরু থেকেই নদিয়ার চাপড়া, শান্তিপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়সহ একাধিক এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও বোমাবাজির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নদিয়া জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ভোট চলাকালীন জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আক্রান্ত বিরোধী শিবির ও উত্তপ্ত নদিয়া
নদিয়ার চাপড়া বিধানসভার হাতরা পঞ্চায়েত এলাকায় মোশারফ মীর নামে এক বিজেপি পোলিং এজেন্টকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, শান্তিপুরে বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের গাড়িতে পাথর বৃষ্টির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিরোধীদের অভিযোগ, বুথ দখল এবং এজেন্টদের ভয় দেখাতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগে সরব মুখ্যমন্ত্রী
সহিংসতার আবহে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে এবং সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ‘সন্ত্রাস’ সৃষ্টি করছে। বাইরে থেকে পর্যবেক্ষক এনে তৃণমূলের পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি রাজনৈতিক উত্তাপ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক ঝলকে
- নদিয়ার চাপড়ায় বিজেপি পোলিং এজেন্টকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ।
- শান্তিপুরে বিজেপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রার্থীর গাড়িতে হামলা।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দ্বিতীয় দফার ভোটে একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত।
