বাঘ বাঁচাতে হাতিয়ার হেঁশেল! সুন্দরবনে পর্যটক টানতে অভিনব কর্মশালা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুন্দরবনের জঙ্গলনির্ভর প্রান্তিক মানুষের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করে বাঘ সংরক্ষণে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করল বন্যপ্রাণপ্রেমী সংস্থা ‘সোসাইটি ফর হেরিটেজ অ্যান্ড ইকোলজিক্যাল রিসার্চেস’ বা ‘শের’। সুন্দরবন ব্যাঘ্রপ্রকল্প সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে দু’দিনের এক বিশেষ রন্ধন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাঘ ও বাদাবন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সক্রিয় অংশীদার করে তোলাই এই ‘কমিউনিটি কালিনারি এক্সেলেন্স ইনিশিয়েটিভ’-এর মূল লক্ষ্য।
বিকল্প জীবিকা ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ
গত এক দশকে সুন্দরবন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে একটি অন্যতম প্রধান বন্যপ্রাণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধির কারণে সেখানে বৈচিত্র্যময় ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। পর্যটন শিল্পের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়েই স্থানীয়দের জঙ্গল নির্ভরতা কমানোর পথ খোঁজা হয়েছে। জঙ্গলে গিয়ে বিপদের ঝুঁকি নেওয়ার বদলে, বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘শের’-এর কর্ণধার জয়দীপ কুণ্ডু।
দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সংস্থার ‘বাঘবন শের কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টারে’ আয়োজিত এই কর্মশালায় সুপরিচিত শেফ পিনাকী রায় প্রশিক্ষণ দেন। সুন্দরবনের হোটেল, হোমস্টে ও লঞ্চের কর্মীদের ভারতীয় ও বিদেশি রান্না, আধুনিক রন্ধন কৌশল এবং মেনু পরিকল্পনার বিষয়ে হাতে-কলমে শেখানো হয়। পেশাদার রন্ধনশৈলীর এই প্রশিক্ষণ স্থানীয়দের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সুন্দরবনের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জীবিকা উন্নয়নের সঙ্গে সংরক্ষণের এই সুপরিকল্পিত মেলবন্ধন আগামী দিনে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বাঘ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
