বাজার ধসের ভয়ে আতঙ্কিত কেন বিনিয়োগকারীরা? রহস্য ফাঁস করলেন নিমেশ চন্দন!

শেয়ার বাজারের অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব: এক বিশ্লেষণ
দেশের শেয়ার বাজারে গত কয়েক মাস ধরে চলা অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিফটি ৫০ সূচক যেখানে ২১,৮১০ পয়েন্টের উচ্চতায় পৌঁছেছিল, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০২৬ সালের মার্চ মাসেও বাজার প্রায় একই অবস্থানে থমকে আছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বহু শেয়ারের দাম আগের উচ্চতায় ফিরে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার মধ্যেই এখন প্রশ্ন জেগেছে, বাজারের প্রকৃত ‘তলানি’ বা নিম্নসীমা আসলে কোথায় এবং এই অনিশ্চয়তা কতদিন স্থায়ী হবে।
মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও বিনিয়োগ কৌশল
বাজারের এই ধীরগতির পেছনে কেবল অর্থনৈতিক কারণ নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনও সমানভাবে কাজ করছে। বাজাজ ফিনসার্ভ এএমসি-র চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার নিমেশ চন্দন নোবেলজয়ী ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের ‘টু সেল্ভস’ তত্ত্বের আলোকে এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের ‘এক্সপেরিয়েন্সিং সেল্ফ’ বর্তমানে বাজারের অস্থিরতায় আতঙ্কিত, অথচ তাদের ‘রিমেম্বারিং সেল্ফ’ অতীতের বড় মুনাফার স্মৃতিতে বর্তমানের ঝুঁকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই দ্বান্দ্বিক মানসিকতার কারণেই বিনিয়োগকারীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে অতীতের চেয়েও বেশি আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন। এই অস্থিরতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে তিনি ধাপে ধাপে অর্থাৎ এসআইপি (SIP) বা এসটিপি (STP)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
এক ঝলকে
- ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নিফটি ৫০ সূচক একই উচ্চতায় স্থবির হয়ে আছে।
- অনেক শেয়ার এখনো তাদের আগের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছাতে না পারায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
- মানসিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমাতে এককালীন বিনিয়োগের বদলে এসআইপি (SIP) বা এসটিপি (STP)-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
