বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে এবার মুখ খুললেন প্রসেনজিতের বোন পল্লবী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পেশাগত সাফল্য আকাশচুম্বী হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে প্রসেনজিতের বোন তথা অভিনেত্রী পল্লবী চট্টোপাধ্যায় পরিবারের ভেতরের এক অজানা অধ্যায় সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিনেতার পুত্র ছাড়াও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী অপর্ণা গুহঠাকুরতার পক্ষে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যাঁর নাম প্রেরণা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাবার সঙ্গে দীর্ঘ বছর ধরে প্রেরণার কোনো প্রকার যোগাযোগ নেই।
বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ ও পারিবারিক দূরত্ব
পারিবারিক এই দূরত্বের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পল্লবী চট্টোপাধ্যায় জানান, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অপর্ণা দেবী মেয়ে প্রেরণাকে নিয়ে লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পল্লবীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে যখন তিনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন অভিনেতা জানান যে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী চাননি তিনি মেয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখুন। অন্যদিকে, পল্লবী আরও উল্লেখ করেন যে প্রেরণা ছোট থাকা অবস্থায় নিজের জন্মদিনে বাবাকে আমন্ত্রণ জানালেও প্রসেনজিৎ সেখানে উপস্থিত হননি। ফলস্বরূপ, ক্রমাগত অবহেলা ও দূরত্ব বাড়ার কারণে একপর্যায়ে মেয়ের পক্ষ থেকেও যোগাযোগের এই অধ্যায়টি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মানসিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
পিতা ও কন্যার এই দীর্ঘস্থায়ী দূরত্বের ফলে প্রসেনজিৎ-কন্যা প্রেরণার মনে একটি গভীর ক্ষোভ এবং না-পাওয়ার বেদনা তৈরি হয়েছে। পল্লবী প্রেরণাকে অত্যন্ত পরিপক্ব এবং সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করে জানান, প্রেরণা এখন আর তাঁর বাবাকে নিয়ে কোনো আলোচনাও করতে পছন্দ করে না। পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে যেখানে যেকোনো মানুষের সাথে সহজেই যুক্ত হওয়া সম্ভব, সেখানে কেবল সদিচ্ছার অভাবেই এই দূরত্ব বজায় রয়েছে। তিনি নিজে ভাইঝির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক রাখলেও, পিতা-কন্যার এই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এক অমীমাংসিত সংকট হিসেবেই রয়ে গেছে।
