‘বাম ছাড়া সংসদীয় রাজনীতি…’ , গুরুত্ব বোঝালেন CPIM বিধায়ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ নির্বাচনের আবহে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন ডোমকলের নবনির্বাচিত সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। বিধানসভায় বামেদের দীর্ঘদিনের শূন্যতা কাটিয়ে এবার তিনি একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সংখ্যার জোরে যাতে বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব না করা হয়, সেই বিষয়ে অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। এই বিধানসভায় প্রফুল্ল ঘোষ, বিধান রায় থেকে শুরু করে জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো প্রবাদপ্রতিম মুখ্যমন্ত্রীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
সংসদীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের অনিবার্য গুরুত্ব
গত বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট একটিও আসন না পেলেও এবার ডোমকল আসনটি জিতে খাতা খুলেছে সিপিআইএম। বিধানসভায় দলের একমাত্র প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও সংসদীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের প্রাসঙ্গিকতার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানান, সংখ্যার বিচারে এবারের বিধানসভায় তিনি একা হলেও ভারতের সামগ্রিক সংসদীয় রাজনীতি বামেদের চিন্তাভাবনা ও বক্তব্য ছাড়া চলতে পারে না। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার দীর্ঘকালীন স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের উদাহরণ টেনে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পরিচালনায় বামেদের ঐতিহ্যবাহী ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান
এবারের নির্বাচনে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও বিধানসভাকে মূলত বিরোধীদের কণ্ঠস্বরের জায়গা হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন এই বাম বিধায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতেও বিধানসভায় বিরোধীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা নিশ্চিত করতে স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। সংখ্যার আধিক্যের কারণে যাতে কোনোভাবেই ভিন্নমতকে চাপা দেওয়া না হয় এবং প্রতিটি বিধায়কের সমান অধিকার সুনিশ্চিত থাকে, সেই দাবিই জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিরোধী শিবিরের এই দাবি আগামী দিনে বিধানসভার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রভাব ফেলবে।
