বালি ভ্রমণে কড়া ভিসা-নীতি, বিপাকে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আধুনিক প্রজন্মের পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্য। সেখানকার মনোরম সমুদ্র সৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় জমান। বিশেষ করে সোশাল মিডিয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ইনফ্লুয়েনসারদের কাছে বালি অন্যতম পছন্দের জায়গা। তবে সম্প্রতি বালির ইমিগ্রেশন দপ্তরের নতুন ভিসা-নীতি এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভিসা-নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
বালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও অভিবাসন দপ্তরের দাবি, বহু বিদেশী নাগরিক সাধারণ পর্যটক হিসেবে বা ‘সোশিও-কালচারাল ভিসা’ নিয়ে দ্বীপে প্রবেশ করছেন। তবে সেখানে গিয়ে তাঁরা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রচুর ছবি, ভিডিও এবং রিল তৈরি করছেন, যা সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করে পরবর্তীতে অর্থ উপার্জন করা হচ্ছে। সাধারণ পর্যটন ভিসা নিয়ে এসে এই ধরনের ব্যবসায়িক বা পেশাদার কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি স্পষ্টত ভিসা-নীতির লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নজরদারিতে একাধিক পেশা
নতুন এই কড়া নিয়মের আওতায় শুধুমাত্র মূল সারির কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই নন, বরং আরও বেশ কিছু পেশার মানুষদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি জারি করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন রূপটান শিল্পী, কেশবিন্যাস শিল্পী, ফোটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, ওয়েলনেস কোচ, যোগা প্রশিক্ষক এবং ডিজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এমনকি যারা ‘ফ্রি ভলেন্টিয়ার’ হিসেবে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় কাজের বিনিময়ে বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুবিধা নিচ্ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সাধারণ পর্যটক ভিসা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। সঠিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য ইমিগ্রেশন আধিকারিকরা এখন সোশাল মিডিয়ার প্রোফাইলগুলোতেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন।
ভ্রমণ ও উপার্জনে সম্ভাব্য প্রভাব
এই নতুন এবং কঠোর ভিসা-নীতির কারণে বালির পর্যটন শিল্পে ইনফ্লুয়েনসারদের অবাধ যাতায়াতে বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে। যেহেতু সেখানে তৈরি করা কনটেন্ট থেকে আর্থিক উপার্জনের পথ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হতে চলেছে, তাই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বালি ভ্রমণের হিড়িক অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সোশাল মিডিয়ায় বালির প্রচার কমতে পারে, অন্যদিকে পেশাদার কাজের উদ্দেশ্যে বালি যেতে হলে এখন থেকে আরও জটিল ও নির্দিষ্ট ওয়ার্ক ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
