ভুলের মাসুল এবং আইনি বেড়াজাল, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা – এবেলা

ভুলের মাসুল এবং আইনি বেড়াজাল, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এই রিটে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশজুড়ে বিলুপ্তপ্রায় রোগ হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। টিকাদানের ব্যর্থতায় ইতিমধ্যে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য নাগরিক আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই গুরুতর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে এই মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মোস্তফা সরয়ার ফারুকিসহ তৎকালীন সকল উপদেষ্টা এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আরজি জানানো হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন সহিংসতা

টিকাদান সংকটের পাশাপাশি ড. ইউনুসের শাসনামলে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার বিষয়টিও এখন জনসমক্ষে উঠে আসছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমণ্ডির ছায়ানট ভবনে মুখশধারী দুষ্কৃতীদের ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিকে নির্দেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেশি অস্ত্রধারী যুবকদের তাণ্ডবের যে চিত্র দেখা গেছে, তা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি করেছিল।

সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের মতো সংবেদনশীল জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতে ছেড়ে দেওয়ার ফলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিশু মৃত্যুর হারে। অন্যদিকে, ছায়ানট ও উদীচীর মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা বাঙালি সংস্কৃতির মুক্তচর্চাকে দারুণভাবে ব্যাহত করেছে। এই দুই ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব দেশের জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে এক দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *