বিচ্ছেদ কি তবে অন্তিম রূপ নিল অভিমানেই? অনীকের মৃত্যুর পর নীরবতা ভাঙলেন প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি – এবেলা

বিচ্ছেদ কি তবে অন্তিম রূপ নিল অভিমানেই? অনীকের মৃত্যুর পর নীরবতা ভাঙলেন প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক প্রয়াণ বিনোদন জগতে গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে। গত বুধবার, ২৭ মে প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই পরোক্ষভাবে আঙুল তুলছেন পরিচালকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্তের দিকে। অবশেষে এই সব জল্পনা ও কটাক্ষের মুখে নিজের নীরবতা ভেঙে প্রথমবার মুখ খুললেন তিনি।

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও শেষ দেখা

দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকলেও অনীক দত্তর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে সমাজ মাধ্যমে চলা কাটাছেঁড়া প্রসঙ্গে সন্ধি দত্ত জানান, তাঁদের মধ্যে ইদানীং কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে শেষবার যখন অনীক তাঁর কাছে এসেছিলেন, তখন তাঁরা বেশ কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন এবং অনেক কথাও হয়েছিল। বন্ধুদের মাধ্যমে অনীক বারবার পুরনো সম্পর্কে ফিরে আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেও সন্ধি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন এবং আর ফিরে যাননি।

তবে আত্মহত্যার জন্য নিজের বাড়ি বেছে নেওয়ার পেছনে অনীকের কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্য ছিল না বলেই মনে করেন সন্ধি। তাঁর মতে, অনীক তাঁকে কোনোভাবেই দায়ী করতে চাননি কিংবা কাঠগড়ায় তোলার জন্য এই চরম সিদ্ধান্ত নেননি। সমাজ মাধ্যমের সমস্ত কটাক্ষ থেকে নিজেকে দূরে রেখে তিনি স্পষ্ট জানান, অবসাদের চরম মুহূর্তেই হয়তো পরিচালক এমন একটি পথ বেছে নিয়েছেন।

নেপথ্যে দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ

ঘটনার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পরিচালকের দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতার কথা। সন্ধি দত্ত প্রকাশ করেছেন যে, অনীক গত তিন বছর ধরে তীব্র মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধও খেতেন। চিকিৎসাধীন থাকার পরেও মানসিক অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যে নিজেদের আবেগকে ধরে রাখতে পারেন না, যা অনীকের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার প্রভাব টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ গভীরভাবে পড়েছে। একজন প্রতিভাবান পরিচালকের এমন পরিণতিতে বিনোদন জগতের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। গত শুক্রবার নন্দনে ও এনটিওয়ান স্টুডিয়োয় প্রয়াত পরিচালকের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর মেয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *