বিজেপি নেতাদের রাজনীতি স্কুলের প্রিন্সিপাল মমতাদিদি! বিস্ফোরক সায়নী ঘোষ- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে কথার লড়াই। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা নেত্রী তথা যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং অভিজ্ঞতার নিরিখে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেতাদের তুলনায় কয়েক যোজন এগিয়ে রয়েছেন।
প্রিন্সিপাল বনাম ছাত্র সায়নীর ধারালো রূপক
সাক্ষাৎকারে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনঘন বাংলা সফর এবং রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সায়নী ঘোষ একটি কৌতুকপূর্ণ অথচ শাণিত উপমা ব্যবহার করেন। তাঁর মতে:
- অভিজ্ঞতার উচ্চতা: বিজেপি নেতারা বর্তমানে যে স্তরে রাজনীতি শেখার চেষ্টা করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই সেই পর্যায় অতিক্রম করেছেন। সায়নী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিজেপি নেতারা এখন যে ক্লাসে রাজনীতি শেখার চেষ্টা করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই স্কুলের প্রিন্সিপাল।”
- জনভিত্তির লড়াই: দিল্লির নেতারা কেবল ভোটের সময় বাংলায় এসে ঘর গোছানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বছরের ৩৬৫ দিনই মানুষের অভাব-অভিযোগের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকেন।
- ২০২৬-এর পূর্বাভাস: সায়নীর বিশ্বাস, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলার মানুষ পুনরায় উন্নয়নের পক্ষে এবং তৃণমূলের সমর্থনে রায় দেবেন, যার ফলে বিরোধীদের সমস্ত নীল নকশা ব্যর্থ হবে।
তৃণমূলের রণকৌশল ও সায়নীর বার্তার তাৎপর্য
সায়নী ঘোষের এই মন্তব্য মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের একটি নির্দিষ্ট রণকৌশলের অংশ। বিজেপি নেতাদের ‘বহিরাগত’ এবং ‘বাংলার নাড়ি নক্ষত্র বুঝতে অক্ষম’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে তৃণমূল শিবির। সায়নী বোঝাতে চেয়েছেন যে, দিল্লির হাইকম্যান্ড যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, স্থানীয় মানুষের আবেগ ও প্রয়োজনের সাথে মমতার যে সংযোগ রয়েছে, তা টপকানো বিজেপির পক্ষে প্রায় আসাম্ভব। এই ধরণের আক্রমণাত্মক বক্তব্য তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ
সায়নী ঘোষের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের পক্ষ থেকে পাল্টা কটাক্ষ করে জানানো হয়েছে যে, যে স্কুলের কথা সায়নী বলছেন, সেখানে ছাত্রছাত্রীরা কেবল দুর্নীতির পাঠ শিখছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে এবং তৃণমূলের এই ঔদ্ধত্যের জবাব ভোটবাক্সেই মিলবে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে দুই পক্ষের এই বাদানুবাদ বাংলার রাজনৈতিক ময়দানকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।
এক ঝলকে
- ২০২৬ নির্বাচনের আগে বিজেপিকে শাণিত আক্রমণ সায়নী ঘোষের।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতির ‘প্রিন্সিপাল’ এবং বিজেপি নেতাদের ‘ছাত্র’ হিসেবে অভিহিত করলেন তিনি।
- সায়নীর দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নেতারা বাংলার নাড়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বোঝেন না।
- বিজেপির পাল্টা অভিযোগ অনুযায়ী, তৃণমূলের ‘স্কুলে’ কেবল দুর্নীতির শিক্ষা দেওয়া হয়।
- উন্নয়নের নিরিখে ২০২৬ সালে তৃণমূলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সায়নী।
