বিমানের লাগামহীন ভাড়ায় সুপ্রিম কোর্টের তীব্র অসন্তোষ, যাত্রীদের স্বস্তি দিতে কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ – এবেলা

বিমানের লাগামহীন ভাড়ায় সুপ্রিম কোর্টের তীব্র অসন্তোষ, যাত্রীদের স্বস্তি দিতে কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একই দিনে একই গন্তব্যের বিমান ভাড়ায় বিপুল তারতম্য এবং আকাশছোঁয়া টিকিটের মূল্য নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিমান ভাড়াকে একটি যৌক্তিক কাঠামোর মধ্যে এনে সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তি দিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সামাজিক কর্মী এস. লক্ষ্মীনারায়ণের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে এই বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন।

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, একই রুটে একই দিনে একটি বিমানসংস্থা যেখানে ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া ৮ হাজার টাকা রাখছে, সেখানে অন্য আরেকটি সংস্থা ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। উৎসবের মরশুম কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিমান ভাড়ার এই আকস্মিক ও অন্যায্য বৃদ্ধিকে এর আগের শুনানিতে ‘শোষণ’ বলে আখ্যা দিয়েছিল আদালত। দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের হলফনামা পেশের প্রেক্ষিতে আবেদনকারীর জবাব চেয়ে মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ জুলাই ধার্য করা হয়েছে।

ভাড়া বৈষম্যের মূল কারণ

মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী রবীন্দ্র শ্রীবাস্তব আদালতে জানান, বিমান চলাচল আইন ১৯৩৭-এর অধীনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের স্পষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা সঠিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর কাছে বিমানসংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা রোখার পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা তা প্রয়োগ করছে না। অন্যদিকে, সরকারি তরফে জানানো হয়েছে যে নতুন ‘ভারতীয় বিমান আইন ২০২৪’ কার্যকর হয়েছে এবং এর অধীনে নতুন নিয়মাবলী তৈরির জন্য বর্তমানে অংশীদারদের সাথে পরামর্শ প্রক্রিয়া চলছে। মূলত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নজরদারির অভাব এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে বিমানসংস্থাগুলোর একচেটিয়া মুনাফা লোটার মানসিকতাই এই লাগামহীন ভাড়ার মূল কারণ।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সম্ভাব্য স্বস্তি

সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর অবস্থানের ফলে আগামী দিনে বিমান ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা (প্রাইস ক্যাপ) নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। নতুন নিয়মাবলী চূড়ান্ত হলে বিমানসংস্থাগুলো উৎসব বা জরুরি পরিস্থিতিতে ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের পকেট কাটতে পারবে না। আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে এভিয়েশন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)-কে আরও জবাবদিহি করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আকাশপথের যাতায়াতকে সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য আরও সাশ্রয়ী ও হয়রানিমুক্ত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *