বিয়েতে আর সোনা নয়? দেশবাসীকে বিরাট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, এবার কী করবেন আমজনতা? – এবেলা

বিয়েতে আর সোনা নয়? দেশবাসীকে বিরাট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, এবার কী করবেন আমজনতা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিয়ের মরসুমে সোনা কেনা নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তিনি অনুরোধ করেছেন, অন্তত এক বছরের জন্য যেন বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সোনা কেনা এড়িয়ে চলার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে বিয়ের সাথে স্বর্ণালঙ্কারের নিবিড় সম্পর্ক থাকলেও, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পেছনে গভীর অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত যেহেতু বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল ও সোনা আমদানিকারক দেশ, তাই একসাথে দুটির দাম বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বড় ধরনের টান পড়তে পারে। মূলত ভারতীয় মুদ্রার মান ধরে রাখতেই সোনা আমদানিতে এই রাশ টানার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা ও ভবিষ্যতের গতিপ্রকৃতি

বাজারে বর্তমানে সোনার দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিমুখী অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার ফলে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা তাই এখনই সোনা বিক্রি করতে নারাজ। অন্যদিকে, যাঁরা গত কয়েক বছরে কম দামে সোনা কিনেছিলেন, তাঁরা বর্তমান স্থির বাজারকে আংশিক মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে, বিয়ের মরসুম বা উৎসবের আগে সাধারণত চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা দামকে আবার ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর স্বর্ণ মজুত করার নীতির ওপর। এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে নিজস্ব আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিচার করেই দেশবাসীকে সোনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *