বিয়ের দিন বর-কনে জানতে পারলেন তারা ভাই-বোন, তারপর যা ঘটল তা কেউ কল্পনাও করেনি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চীনের সুজৌ প্রদেশে সম্প্রতি এক বিয়েবাড়িতে ঘটে গেল সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। বিয়ের সব আয়োজন যখন প্রায় শেষ, ঠিক তখনই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাত্রের মা খেয়াল করেন যে তাঁর পুত্রবধূর হাতে একটি বিশেষ জন্মদাগ রয়েছে, যা হুবহু তাঁর ২০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া কন্যাসন্তানের দাগের মতো। কৌতূহলবশত কনের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই বেরিয়ে আসে মূল সত্য।
বিস্ময়কর পরিচয় ও আবেগঘন মুহূর্ত
কনের পালক বাবা-মা স্বীকার করেন যে, প্রায় দুই দশক আগে তাঁরা শিশুটিকে রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন এবং নিজেদের সন্তানের মতোই বড় করে তুলেছেন। এই সত্য উন্মোচনের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন কনে। বিয়ের আসর মুহূর্তেই রূপান্তরিত হয় এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনের উৎসবে। তবে আনন্দের মাঝেও একটি দুশ্চিন্তা বড় হয়ে দেখা দেয়— বর ও কনে সম্পর্কে ভাই-বোন হলে বিয়ে কীভাবে সম্ভব?
সম্পর্কের নতুন মোড় ও মিলন
ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে পাত্রের মা আরেকটি বড় সত্য সামনে আনেন। তিনি জানান, নিজের আসল মেয়েকে হারিয়ে ফেলার পর তিনি এই ছেলেটিকে দত্তক নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, বর ও কনের মধ্যে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। এই নাটকীয় মোড় সব আইনি ও সামাজিক বাধা দূর করে দেয়। বড়দের সম্মতিতে শেষ পর্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় বিয়ে। এই ঘটনার সামাজিক প্রভাব হিসেবে পারিবারিক অনুসন্ধান ও দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকতর স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এক ঝলকে
- চীনের সুজৌতে বিয়ের পিঁড়িতে বসার সময় কনের হাতে থাকা জন্মদাগ দেখে তাঁকে নিজের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে হিসেবে শনাক্ত করেন পাত্রের মা।
- কনের বর্তমান পরিবার স্বীকার করেন যে তাঁরা ২০ বছর আগে শিশুটিকে কুড়িয়ে পেয়ে দত্তক নিয়েছিলেন।
- পাত্র নিজেও দত্তক নেওয়া সন্তান হওয়ায় বর ও কনের মধ্যে কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল না, ফলে বিয়েতে কোনো বাধা থাকেনি।
- বিরল এই ঘটনাটি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
