বিয়ে করার জন্য অন্যের স্ত্রীকে চুরি করা হয়, তারপর পুনরায় বিয়ে হয়! এই কাণ্ডে হতবাক সকলে – এবেলা

বিয়ে করার জন্য অন্যের স্ত্রীকে চুরি করা হয়, তারপর পুনরায় বিয়ে হয়! এই কাণ্ডে হতবাক সকলে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম আফ্রিকার প্রাচীন উডাব্বে উপজাতির মধ্যে এক অনন্য ও বিস্ময়কর বিবাহ রীতি প্রচলিত রয়েছে। সভ্য সমাজের রীতিনীতির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এই প্রথায় অন্যের স্ত্রীকে নিজের করে নেওয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ের অধিকার পান পুরুষরা। আধুনিক বিশ্বে যেখানে পরকীয়া বা অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালানোকে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, সেখানে এই জনজাতির মানুষ এটিকে তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পালন করে আসছেন।

প্রেমের টানে চুরির উৎসব

এই বিচিত্র প্রথার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রতি বছর আয়োজিত হওয়া ‘গেরেভোল’ উৎসব। এই উৎসবে পুরুষরা নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলতে মুখে বিশেষ রং মাখেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে নাচের মাধ্যমে বিবাহিত নারীদের মন জয় করার চেষ্টা করেন। নিয়ম অনুযায়ী, যে পুরুষ কোনো বিবাহিত নারীকে মুগ্ধ করতে পারেন, তিনি তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অধিকার পান। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার সময় ওই নারীর বর্তমান স্বামীর উপস্থিতি থাকা চলবে না এবং তিনি যেন বিষয়টি আগে থেকে বুঝতে না পারেন, সেদিকে কড়া নজর রাখা হয়।

সামাজিক স্বীকৃতি ও প্রভাব

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পালিয়ে যাওয়াকে এই সমাজে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয় এবং পরবর্তীতে পুরো উপজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ের স্বীকৃতি দেয়। উডাব্বেদের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রথম বিয়ে পরিবারের সম্মতিতে হলেও দ্বিতীয় বিবাহ হতে হয় সম্পূর্ণ মনের মিল ও ভালোবাসার ভিত্তিতে। এই প্রথাটি মূলত সেইসব মানুষের জন্য এক সুযোগ তৈরি করে, যারা সামাজিক বা পারিবারিক চাপে নিজেদের পছন্দের মানুষের সঙ্গে থাকতে পারেন না। এর মাধ্যমে একটি নতুন সংসারের সূচনা হয় যা ওই সমাজে সম্পূর্ণ বৈধ।

এক ঝলকে

  • পশ্চিম আফ্রিকার উডাব্বে জনজাতির মধ্যে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ের এক বিচিত্র প্রথা রয়েছে।
  • প্রতি বছর ‘গেরেভোল’ নামক উৎসবের মাধ্যমে পুরুষরা নিজেদের সাজিয়ে বিবাহিত নারীদের মন জয়ের লড়াইয়ে নামেন।
  • যদি কোনো নারী রাজি হন, তবে ওই পুরুষ তাকে নিয়ে পালিয়ে যান এবং সমাজ পরে তাদের বিয়ের স্বীকৃতি দেয়।
  • এই জনজাতি প্রথম বিবাহ পরিবারের পছন্দে করলেও দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে প্রেম ও ব্যক্তিগত পছন্দকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *