মেয়েকে ঘরে আটকে রেখে বিয়েবাড়িতে চলে গেলেন বাবা-মা, ফিরে এসে দেখলেন শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুম্বাইয়ের দাদর এলাকার একটি বহুতল আবাসন থেকে এক কিশোরী ছাত্রীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রীর নাম শ্রাবণী চাওয়ান (১৬)। জানা গেছে, পড়াশোনায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণে কিশোরীর বাবা-মা তার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই আবাসনের তৃতীয় তলে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়, যা মুহূর্তেই গ্রাস করে নেয় শ্রাবণীর ঘরটিকে।
অসতর্কতা নাকি বিধির লিখন
দমকল বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাঁচতলা ওই ভবনের তৃতীয় তলে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আগুনের সূত্রপাত হয়। শ্রাবণীর ঘরের দরজা ভেতর এবং বাইরে—উভয় দিক থেকেই বন্ধ থাকায় সে বের হতে পারেনি। প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং আগুনের লেলিহান শিখায় দমবন্ধ হয়ে এবং দগ্ধ হয়ে ঘরের ভেতরেই আটকা পড়ে সে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও কিশোরীকে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রহস্যের জটে তদন্ত প্রক্রিয়া
মৃত কিশোরীর বাবা পেশায় একজন পুলিশ কর্মী। এই অগ্নিকাণ্ডে ওই ফ্ল্যাটের ইলেকট্রিক ওয়্যারিং এবং বহু মূল্যবান আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের উৎস নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ঘটনাস্থলের পাশেই একটি কেরোসিনের ড্রাম উদ্ধার হয়েছে, যা এই দুর্ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ফ্ল্যাটের ভেতরে কেরোসিন কোথা থেকে এলো এবং আগুনের প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ ও ফরেনসিক দল।
এক ঝলকে
- মুম্বাইয়ের দাদর এলাকায় বহুতলে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বছর বয়সী কিশোরী শ্রাবণী চাওয়ানের মৃত্যু।
- পড়াশোনার স্বার্থে বাবা-মা কিশোরীকে ঘরে তালাবন্ধ করে বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন।
- ভেতর ও বাইরে থেকে দরজা বন্ধ থাকায় কিশোরী ঘর থেকে বের হতে পারেনি।
- ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিনের ড্রাম উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
