বিয়ে ভাঙার পরও কাটছে না মানসিক অশান্তি, জেনে নিন একাকিত্ব দূর করার সহজ উপায় – এবেলা

বিয়ে ভাঙার পরও কাটছে না মানসিক অশান্তি, জেনে নিন একাকিত্ব দূর করার সহজ উপায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে সমাজের পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক ট্যাবু আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। বিয়ে ভাঙার পর কোনো পুরুষ বা বিশেষ করে নারীকে ঘিরে আগের মতো তীব্র কটাক্ষ বা বিদ্রূপের শিকার হতে হয় না। তবে সামাজিক স্বীকৃতি মিললেও আইনি বিচ্ছেদের পর অনেকের জীবনেই নেমে আসে চরম মানসিক দুর্বলতা ও একাকিত্ব। বিষময় দাম্পত্য বয়ে বেড়ানোর চেয়ে বিচ্ছেদ শ্রেয় হলেও, এই রূপান্তর বা নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেকের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচ্ছেদ পরবর্তী নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

মানসিক বিপর্যস্ততার কারণ ও প্রভাব

বিবাহবিচ্ছেদ জীবনের অন্যতম একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বিচ্ছেদের পর কেউ কেউ যেমন ঝামেলাহীন স্বাধীন জীবন উপভোগ করেন, তেমনি অনেকের ক্ষেত্রে এর উল্টো প্রভাব দেখা যায়। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জীবিকা শর্মার মতে, একা হয়ে যাওয়ার পর তীব্র নিঃসঙ্গতা ও বিষণ্ণতা গ্রাস করতে পারে। মনের ভেতর জমে থাকা আবেগ ও দুঃখ প্রকাশ করতে না পারলে মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি হয়। অনেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন, যার ফলে দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমা তৈরি হয়।

স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অব্যর্থ কৌশল

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কঠিন সময়ে নিজের আবেগ বা মনের ভাব চেপে রাখা একেবারেই উচিত নয়। নিজেকে গুটিয়ে না রেখে বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়-পরিজনের মধ্যে ভরসার জায়গা খুঁজে নিয়ে মনের কথা প্রকাশ করা দরকার। প্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমেও নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ক্ষত নিরাময় করতে এবং মন শান্ত রাখতে পুরনো কোনো শখ বা প্রিয় অভ্যাসের পেছনে সময় দেওয়া জরুরি। নতুন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বাড়ানো উচিত, যারা অতীত নিয়ে খোঁচাবেন না বরং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবেন। বর্তমান সমাজে মনোবিদের কাছে যাওয়া নিয়ে হীনমন্যতা অনেকটাই দূর হয়েছে। তাই মানসিক চাপ মাত্রাতিরিক্ত রূপ নিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও প্রফেশনাল কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিয়ে জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *