বিশ্বজয়ের আলো ছড়ানো স্টেডিয়ামে লুকিয়ে আছে রক্ত আর কান্নার এক অজানা ইতিহাস – এবেলা

বিশ্বজয়ের আলো ছড়ানো স্টেডিয়ামে লুকিয়ে আছে রক্ত আর কান্নার এক অজানা ইতিহাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপের স্মৃতি বিজড়িত ফুটবল মাঠ ‘এস্তাদিও নাসিওনাল দে চিলি’। তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ ফুটবল তারকা গ্যারিঞ্চার জাদুকরী পারফরম্যান্সে চেকোশ্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এই মাঠেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ৬৮ হাজার দর্শকের করতালিতে মুখরিত সেই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামটিই মাত্র ১১ বছরের ব্যবধানে রূপ নেয় এক নারকীয় বন্দিশালা ও গণহত্যার মঞ্চে। ফুটবলের চরম গৌরবগাথার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় সেনাশাসনের নির্মম ও রক্তাক্ত অধ্যায়।

ফুটবল পিচ থেকে বন্দিশালা

১৯৭৩ সালে চিলির তৎকালীন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট সালভাদোর আলেন্দের বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। সেনাশাসক জেনারেল অগাস্টো পিনোশের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় পুরো দেশ। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে বেছে নেওয়া হয় দেশের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল স্টেডিয়ামটিকে। রাতারাতি খেলার মাঠ পরিণত হয় কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। সে সময় প্রায় ২০ হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে এই মাঠে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়েছিল। দিনের আলোয় যে গ্যালারিতে বসে মানুষ ফুটবলের আনন্দ উপভোগ করত, রাতের অন্ধকারে সেখানেই বন্দিদের ওপর চলত নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

রক্তাক্ত ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই স্টেডিয়ামের ভেতরেই শত শত মানুষকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল, যাদের অনেকের মরদেহের শেষ সৎকারটুকু পর্যন্ত হয়নি। যদিও সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৪১ জন বলে উল্লেখ করা হয়। এই নারকীয় ঘটনার মাত্র দুই মাস পর ১৯৭৪ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে চিলির মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের। কিন্তু এই গণহত্যার প্রতিবাদে সোভিয়েত দল চিলির মাঠে এসে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে চিলি দল ফাঁকা মাঠেই প্রতীকী গোল দিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।

বর্তমানে এই মাঠেই চিলি জাতীয় দলের ফুটবল ম্যাচগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। তবে কলঙ্কিত সেই অতীতকে ভুলে যায়নি দেশটির মানুষ। নিহত ও নিখোঁজদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্টেডিয়ামের একটি নির্দিষ্ট গেট এবং স্ট্যান্ডকে চিরতরে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে, যা আজও আগত দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় ফুটবলের সবুজ ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকা এক রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *