বিশ্বজুড়ে কমছে জন্মহার, এবার কি তবে জনবিস্ফোরণের বদলে জনসংকোচনের মুখে ভারত? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ক্রমশ মন্থর হচ্ছে এবং এই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে ভারতের নামও। কয়েক দশক আগেও ভারতে প্রতি মহিলার গড় সন্তান জন্মদানের হার ছিল ৩.৪, যা বর্তমানে কমে মাত্র ২-এ দাঁড়িয়েছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কম। শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের বহু দেশে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে ১-এর নিচে, এমনকি কোথাও কোথাও শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে তীব্র শ্রমসংকট এবং বয়স্ক জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড়সড় ধাক্কা দেবে।
স্মার্টফোনের আসক্তি ও জীবনযাত্রার বদল
দীর্ঘদিন ধরে জন্মহার হ্রাসের পেছনে জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচ, দেরিতে বিয়ে, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ এবং বন্ধ্যাত্বের মতো কারণগুলোকে দায়ী করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, হাই-স্পিড ৪জি ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের বহুল ব্যবহার জন্মহার কমার অন্যতম প্রধান কারণ। আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত জন্মহার স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০০৭ সালের পর থেকে, অর্থাৎ স্মার্টফোন ও বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকেই এই হার দ্রুত কমতে শুরু করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, যারা ডিজিটাল দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।
সামাজিক সম্পর্কের ওপর ডিজিটাল দুনিয়ার প্রভাব
গবেষকদের দাবি, স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তির কারণে দম্পতিদের মধ্যে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা এবং গুণগত সময় কাটানোর হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছে। অবসর সময়ে একে অপরের সাথে যোগাযোগের বদলে মানুষ স্ক্রিনের পেছনেই বেশি সময় ব্যয় করছে। অতীতে টেলিভিশনের প্রসারের ফলেও ছোট পরিবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছিল এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তা ভূমিকা রেখেছিল। তবে গবেষকরা সতর্ক করছেন যে, স্মার্টফোনের প্রভাব টেলিভিশনের চেয়েও অনেক বেশি গভীর ও মারাত্মক। কারণ এটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং আকর্ষণীয় হওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও পারস্পরিক সম্পর্কের আবেগকে গ্রাস করে নিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক জন্মহারে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
