বিষাক্ত ইনজেকশন নয়, এবার সরাসরি গুলি! আমেরিকায় ভয়ংকর অপরাধীদের জন্য ‘ফায়ারিং স্কোয়াড’ ফেরাচ্ছেন ট্রাম্প – এবেলা

বিষাক্ত ইনজেকশন নয়, এবার সরাসরি গুলি! আমেরিকায় ভয়ংকর অপরাধীদের জন্য ‘ফায়ারিং স্কোয়াড’ ফেরাচ্ছেন ট্রাম্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ অপরাধীদের দণ্ডবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে ভয়ঙ্কর খুনি ও সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কেবল বিষাক্ত ইনজেকশনের ওপর নির্ভর না করে ফায়ারিং স্কোয়াড, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা বা বিষাক্ত গ্যাসের মতো কঠোর পদ্ধতিগুলো ফিরিয়ে আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মূলত বাইডেন প্রশাসনের শিথিল নীতির ইতি টেনে বিচার ব্যবস্থায় কঠোরতা আনাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।

বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের মতে, পূর্ববর্তী সরকার শিশুহত্যাকারী ও সন্ত্রাসীদের শাস্তি প্রদানে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের কর্তব্যে অবহেলা করেছে। ট্রাম্প সরকারের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে প্রকৃত ন্যায়বিচার দিতে আইনের কঠোর প্রয়োগ অনিবার্য। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও ফেডারেল পর্যায়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিলেন।

বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

বর্তমানে আমেরিকার ৫টি অঙ্গরাজ্যে ফায়ারিং স্কোয়াড এবং ৯টি অঙ্গরাজ্যে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার বিধান থাকলেও এর ব্যবহার ছিল সীমিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘ এই পদ্ধতিকে ‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক’ বলে আখ্যা দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন জঘন্যতম অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিধি আরও বিস্তারের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বিচারিক কাঠামোয় বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। যেখানে ইতিমধ্যে ২৩টি অঙ্গরাজ্য মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে, সেখানে ফেডারেল সরকারের এই কঠোর অবস্থান অঙ্গরাজ্য বনাম কেন্দ্রীয় আইনের দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের এই নীতি মূলত অপরাধ দমনে একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে আমেরিকার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন তর্কের জন্ম দেবে।

এক ঝলকে

  • ভয়ঙ্কর অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফায়ারিং স্কোয়াড ও গ্যাস ব্যবহারের অনুমতি।
  • বাইডেন প্রশাসনের শিথিল নীতির বদলে কঠোর বিচার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।
  • নাইট্রোজেন গ্যাসের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় জাতিসংঘের উদ্বেগ ও নিন্দা।
  • জঘন্যতম অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির হার বাড়িয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *