২০২৬ সালে সূর্য কি আগুনের বৃষ্টি ঝরাবে? বাবা ভাঙ্গার ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বুলগেরিয়ার প্রখ্যাত অন্ধ ভবিষ্যৎবক্তা বাবা ভাঙ্গার একটি পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকাল এবং ভয়াবহ তাপপ্রবাহ নিয়ে তাঁর করা সেই পূর্বাভাস এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে। তাঁর অনুগামীদের দাবি অনুযায়ী, এই বছর তাপমাত্রা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যা গত কয়েক দশকের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।
প্রযুক্তি ও প্রকৃতির ওপর চরম আঘাত
বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পৃথিবী এক নজিরবিহীন দাবদাহের সাক্ষী থাকবে। এই অসহনীয় গরমে সাধারণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এয়ার কুলারও অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রচণ্ড দাবদাহের ফলে নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক পানীয় জল সরবরাহ এবং কৃষিকাজের ওপর। ফসলহানি ঘটলে খাদ্যশৃঙ্খলেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞান ও বাস্তবতার সংঘাত
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে ‘এল নিনো’-র প্রভাবে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ৪৪-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। যদিও বিজ্ঞান কোনো আধ্যাত্মিক ভবিষ্যদ্বাণীকে স্বীকৃতি দেয় না, তবুও নাসা এবং আইপিসিসি-র সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো বাবা ভাঙ্গার এই আশঙ্কার সঙ্গে একপ্রকার মিলে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে ২০২৬ সাল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তীব্র এই তাপপ্রবাহের ফলে জনস্বাস্থ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্প ও কৃষিক্ষেত্র এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়া এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবহাওয়ার এই চরম রূপ আগামী মাসগুলোতে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ নিয়ে বুলগেরিয়ার ভবিষ্যৎবক্তা বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
- তীব্র দাবদাহের কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পানীয় জল সংকট ও কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- এপ্রিল মাসেই দক্ষিণ এশিয়ায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়ানোয় এই পূর্বাভাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
- আবহাওয়া বিজ্ঞানীরাও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০২৬ সালকে ইতিহাসের উষ্ণতম বছরগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
