বুথ থেকে বিধানসভা, আধুনিক চাণক্যের মস্তিস্কে যেভাবে অপরাজেয় হয়ে উঠল বিজেপি

১৯৮০ সালে গঠনের পর থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি বিভিন্ন রাজ্যে সাফল্য পেলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মূলত হিন্দি বলয়ের দল হিসেবেই পরিচিত ছিল। অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে কেন্দ্রে সরকার গড়লেও সংগঠনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গিয়েছিল। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে দলটির মধ্যে এক অভূতপূর্ব শক্তির সঞ্চার হয়, যার মূল কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হন অমিত শাহ। তাঁর হাত ধরেই বিজেপি এমন সব রাজ্যে জয়ের পতাকা উড়িয়েছে যেখানে দলের আদর্শগত ভিত্তি একসময় অত্যন্ত দুর্বল ছিল।
পেশাদার সংগঠন ও বুথ ব্যবস্থাপনা
অমিত শাহর সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং ‘বুথ থেকে বহুমত’ নীতি। তিনি কেবল নির্বাচনী প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং প্রতিটি বুথ স্তরে কর্মীদের সক্রিয় করার মাধ্যমে সংগঠনকে নিশ্ছিদ্র করেছেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে ৭১টিতে জয় এনে দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের রণকৌশলের সামর্থ্য প্রমাণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সেই জয়ের ধারা বজায় রেখে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সামাজিক সমীকরণ ও নিবিড় জনসংযোগই হলো আধুনিক রাজনীতির আসল চাবিকাঠি।
দেশজুড়ে গেরুয়া শিবিরের বিস্তার
অমিত শাহর নেতৃত্বে বিজেপি উত্তর-পূর্ব ভারতে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটিয়েছে। ২০১৬ সালে আসামে জয়ের পর ত্রিপুরায় দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সেখানে ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে এনডিএ জোট দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্ষমতায় রয়েছে। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ুতেও পদ্ম শিবিরের উপস্থিতি এখন ক্রমবর্ধমান। এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে তাঁর নিরলস সফর ও রণকৌশল বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অজেয় বিজেপি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহর রণনীতি তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে—শক্তিশালী সংগঠন, বুথ স্তরে সর্বোচ্চ সক্রিয়তা এবং সামাজিক কাঠামোর সুনিপুণ ব্যবহার। এই কৌশলের কারণেই আজ বিজেপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ ভারতে প্রবেশপথ উন্মোচন এবং একের পর এক রাজ্যে হ্যাটট্রিক জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে নিজেকে ‘আধুনিক চাণক্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এক ঝলকে
- ২০১৪ সাল থেকে বিজেপিকে জাতীয় স্তরে সম্প্রসারণে অমিত শাহর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তাঁর সুশৃঙ্খল বুথ ব্যবস্থাপনার কারণে বিজেপি বর্তমানে ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ক্ষমতাসীন।
- উত্তর-পূর্ব ভারতে বাম ও কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে গেরুয়া আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
- সামাজিক সমীকরণ ও মজবুত সাংগঠনিক কাঠামোর সমন্বয়ে বিজেপিকে ‘নির্বাচনী মেশিন’-এ রূপান্তরিত করেছেন।
