বেতন ফেরত না দিলে জেল? ‘অযোগ্য’দের জন্য এবার যমদূত হয়ে নামছে শিক্ষা দপ্তর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারানো ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি ও আর্থিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশ মেনে ওই প্রার্থীদের প্রাপ্ত বেতন ১২ শতাংশ বার্ষিক সুদ-সহ সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া শুরু করল শিক্ষা দপ্তর। মঙ্গলবার রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসককে (DM) এই বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট
শিক্ষা দপ্তর প্রতিটি জেলাশাসকের কাছ থেকে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা ও বেতন ফেরতের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। এর আগে টাকা ফেরতের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেও প্রশাসনিক স্তরে তার বাস্তবায়ন থমকে ছিল। বর্তমান প্রশাসনিক রদবদলের পর এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কতজন প্রার্থী ইতিপূর্বে বেতন ফেরত দিয়েছেন এবং বাকিদের থেকে টাকা আদায়ের বর্তমান স্থিতি কী, তা জানিয়ে দ্রুত ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দিতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রেক্ষাপট
কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্ট, উভয় আদালতই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল, ওএমআর শিট কারচুপি বা বেআইনিভাবে মেধা তালিকায় নাম তুলে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা সরকারি কোষাগারের অর্থ ভোগ করার অধিকারী নন। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৬,০০০ চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিলেও, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্যদের পৃথক করা হয়। তবে ‘অযোগ্য’ হিসেবে প্রমাণিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো রেয়াত না করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
আর্থিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অযোগ্য প্রমাণিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরির শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত পাওয়া সমস্ত বেতন সুদ-সহ সরকারকে ফেরত দিতে হবে। তবে শীর্ষ আদালতের নির্দেশানুসারে, বিশেষ সক্ষম (PwD) প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিছুটা শিথিলতা বজায় রাখা হচ্ছে। শিক্ষা দপ্তরের বর্তমান এই সক্রিয়তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, দুর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। জেলা প্রশাসনকে সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করায় অযোগ্য প্রার্থীদের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
