বৈশাখেই ৪৩ ডিগ্রি ছুঁল পারদ, নেপথ্যে কি তবে শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার এল নিনো? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাপট দেখাতে শুরু করেছে গ্রীষ্ম। ভারতের এক বিশাল অংশ জুড়ে শুরু হয়েছে আগাম গরমের তাণ্ডব। দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা থেকে শুরু করে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা— সর্বত্রই বইছে তীব্র লু। আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং ওড়িশায় তাপপ্রবাহের চরম সতর্কতা জারি করেছে। রাজধানী দিল্লিতে পারদ পৌঁছেছে ৪২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ বছরের উষ্ণতম দিন হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। শুধু দিনের বেলাই নয়, দিল্লি, হরিয়ানা ও ওড়িশায় রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকছে, যা জনজীবনে চরম অস্বস্তি ডেকে আনছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক ও চড়চড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ‘সুপার এল নিনো’-র ভ্রুকুটি।
শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর পূর্বাভাস
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া এই বিশেষ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। ইউরোপীয় মধ্যমেয়াদী আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র (ইসিএমডব্লিউএফ)-সহ বিভিন্ন জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালে তৈরি হওয়া এই এল নিনো গত ১০০ বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’ হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-র জলবায়ু পূর্বাভাস প্রধান উইলফ্রান মুফুমা ওকিয়া জানিয়েছেন, বছরের শুরুতে পরিস্থিতি নিরপেক্ষ থাকলেও বর্তমান মডেলগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণেই ১৯৮২ সালের পর থেকে ‘সুপার এল নিনো ইনডেক্স’ (এসইআই)-এর মান ক্রমাগত বাড়ছে।
মৌসুমি বায়ুর ছন্দপতন ও ভারতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রের উপরিভাগের জল যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে, তখন তাকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ছন্দ বিগড়ে যায়, যার প্রত্যক্ষ ও গুরুতর প্রভাব পড়ে ভারতের ওপর। প্রথমত, এল নিনোর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশজুড়ে বর্ষার ঘাটতি দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টি কম হওয়ায় গ্রীষ্মের মেয়াদ দীর্ঘ হয় এবং তীব্র দাবদাহের সৃষ্টি হয়। ভারতের কৃষি অর্থনীতি যেহেতু সরাসরি বর্ষার ওপর নির্ভরশীল, তাই বৃষ্টির এই ঘাটতি ফসলের ফলন কমিয়ে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
আগামী দিনগুলোর উদ্বেগ
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করবে। এর ফলে উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের রাজ্যগুলোতে জুন মাস পর্যন্ত অসহ্য গরম ও ঘনঘন তাপপ্রবাহ চলতে পারে। ইতিমধ্যেই ওড়িশা ও বিহারের মতো রাজ্যগুলোতে পারদ চড়চড় করে বাড়ছে। গরমের এই তীব্রতায় শরীরে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হচ্ছে এবং শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল পানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
