ভয়ঙ্কর প্রতারণা! ৮ জন স্বামীর সর্বনাশ করে শ্রীঘরে ‘লুটেরা কনে’, ধরা পড়তেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর সত্য!

পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলায় এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে জনৈক নারী তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় একের পর এক আটটি বিয়ে করে সর্বস্ব লুটে নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের কয়েকদিন পরেই ওই নারী শ্বশুরবাড়ির নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে চম্পট দিতেন। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ওই নারী এইচআইভি (HIV) পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও একের পর এক বিয়ে করেছেন এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা আটজন স্বামী এখন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
প্রতারণার নিখুঁত জাল
অভিযুক্ত এই নারী এবং তার সঙ্গীরা মূলত এমন অবিবাহিত পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু করতেন যাদের বিয়ের বয়স প্রায় পেরিয়ে গেছে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে ওই নারী নিজের আসল স্বামীকে ভাই পরিচয় দিয়ে হবু বরের সামনে হাজির করতেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ছদ্মবেশে পরিচয় করিয়ে দিতেন। গত কয়েক বছর ধরে এভাবেই অন্তত আটটি পরিবারকে তারা নিঃস্ব করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। নবম বিয়ের প্রস্তুতির সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে গ্রেফতার করে।
বিপজ্জনক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আইনি ব্যবস্থা
গ্রেফতারের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে ওই নারী দীর্ঘ সময় ধরে এইচআইভি আক্রান্ত। এই মরণঘাতী রোগ গোপন রেখে একের পর এক ব্যক্তির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় সাধারণ প্রতারণার মামলা এখন প্রাণঘাতী ঝুঁকির দিকে মোড় নিয়েছে। অভিযুক্তের তিন সন্তান থাকলেও তিনি অর্থলিপ্সার বশবর্তী হয়ে এই অমানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পাতিয়ালা পুলিশ বর্তমানে পুরো চক্রটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ভুক্তভোগী স্বামীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- পাতিয়ালার দেবীগড় কসবা এলাকায় আট বরের অর্থ লুটে নেওয়া সেই ‘লুটেরা কনে’ গ্রেফতার।
- বিয়ের কয়েকদিন পর গয়না ও নগদ নিয়ে পালানো ওই নারী পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য।
- অভিযুক্ত নারী এইচআইভি পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
- পুলিশি অভিযানে নবম বিয়ের আগেই চক্রটি ধরা পড়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন আরও এক ব্যক্তি।
