৯৬ বছর আগেই মৃত্যু, তবুও মাঝেমাঝেই পলক ফেলছে এই ছোট্ট মেয়েটি! অলৌকিক না বিজ্ঞান?

ছিয়ানব্বই বছর আগেই স্তব্ধ হয়েছে প্রাণস্পন্দন, অথচ আজও রহস্যময়ভাবে চোখের পলক ফেলছে এক শিশু! ইতালির সিসিলিতে সংরক্ষিত রোসালিয়া লোম্বার্ডো নামের এই ছোট্ট শিশুটির মৃতদেহ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রে। মাত্র দুই বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোসালিয়ার দেহটি পালেরমো শহরের একটি মিউজিয়ামে আরও হাজার হাজার মরদেহের সঙ্গে রাখা হয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে এক পরম বিস্ময়।
রহস্যময়ী ‘স্লিপিং বিউটি’
মরদেহটি স্থানান্তরের সময় কয়েকজন কর্মচারী প্রথম লক্ষ্য করেন যে, মৃত শিশুটি যেন জীবন্ত মানুষের মতো চোখের পলক ফেলছে। এই ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রোসালিয়া ‘স্লিপিং বিউটি’ বা ‘নিদ্রিত সুন্দরী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার শরীরটি এমন নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত যে দেখে মনে হয় সে কেবল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তবে শুরুতে অনেকেই একে আলোর প্রতিফলন মনে করলেও, পরে কাঁচের বিশেষ কফিনে রাখার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞান ও অলৌকিকতার দ্বন্দ্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অদ্ভুত ঘটনার পেছনে বৈজ্ঞানিক এবং রাসায়নিক কারণ থাকতে পারে। আর্দ্রতার পরিবর্তন কিংবা কফিনের ভেতরে আলোর বিশেষ কোণের কারণে এটি এক ধরণের দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে এটি অলৌকিক এক ঘটনা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে ওই মিউজিয়ামে পর্যটকদের ভিড় বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে রোসালিয়ার দেহ সংরক্ষণের পদ্ধতিটি নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- ইতালির সিসিলিতে ৯৬ বছর আগে মারা যাওয়া রোসালিয়া লোম্বার্ডো নামের শিশুর মৃতদেহ আজও অবিকৃত।
- মৃত শিশুটির চোখের পলক ফেলার দৃশ্য জনমনে ব্যাপক বিস্ময় ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
- মাত্র দুই বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় প্রাণ হারানো রোসালিয়া বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ‘স্লিপিং বিউটি’ নামে খ্যাত।
- পালেরমোর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত এই দেহটি বিজ্ঞান ও অলৌকিকতার এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
