ভাড়া দিতে না পেরে বাড়িওয়ালার সাথে স্ত্রী ও কন্যাকে ধর্ষণের চুক্তি, গুজরাতে গ্রেফতার পৈশাচিক মানসিকতার স্বামী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গুজরাতের মোরবি জেলায় এক চরম অমানবিক ও জঘন্য অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। জীবিকার তাগিদে সুরেন্দ্রনগর থেকে মোরবিতে আসা এক পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে এমন এক নির্মম পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, যা সভ্য সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। মাত্র কয়েক হাজার টাকার বকেয়া বাড়িভাড়া মেটাতে না পেরে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যাকে বাড়িওয়ালার লালসার শিকার হতে বাধ্য করেছে। বকেয়া ভাড়ার বিনিময়ে বাড়িওয়ালার সাথে নিজের পরিবারকে ধর্ষণের এই গোপন চুক্তি প্রকাশ আসতেই পুলিশ মূল অভিযুক্ত স্বামী এবং বাড়িওয়ালাকে গ্রেফতার করেছে।
আর্থিক অনটন ও জঘন্য চুক্তির নেপথ্য কাহিনী
তদন্তে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে প্রায় ছয় মাস আগে সুরেন্দ্রনগর থেকে মোরবিতে এসেছিল ওই পরিবারটি। সেখানে মাসিক ২,০০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়িতে তারা বসবাস শুরু করে। কিন্তু গত চার মাস ধরে চরম আর্থিক সংকটের কারণে তারা বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে পারেনি। বকেয়া ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র আট হাজার টাকা। এই বকেয়া টাকা আদায় করার জন্য চাপ সৃষ্টি না করে, বাড়ির মালিকের সাথে এক জঘন্য ও পৈশাচিক সমঝোতায় আসে ওই নাবালিকা কন্যার বাবা। ভাড়ার পরিবর্তে নিজের স্ত্রী ও নাবালিকা মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন চালানোর মৌখিক ও গোপন চুক্তি করে সে। এই চুক্তির পর থেকেই বাড়িওয়ালা ওই নারী ও নাবালিকার উপর লাগাতার যৌন নির্যাতন চালাতে শুরু করে, যেখানে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ মদত ছিল খোদ গৃহকর্তার।
আইনি পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রভাব
এই পৈশাচিক নির্যাতনের বিষয়টি একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ বুঝতে পারেন এবং লোকলজ্জার ভয় উপেক্ষা করে মোরবি থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ কালক্ষেপণ না করে ‘যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন’ (POCSO) সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক কঠোর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর পুলিশ অভিযুক্ত বাবা এবং বাড়ির মালিক—উভয়কেই গ্রেফতার করেছে।
ডেপুটি পুলিশ সুপার জে এম লাল ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নাবালিকার বাবা এবং বাড়ির মালিক যৌথভাবে এই ষড়যন্ত্র ও অপরাধের জাল বুনেছিল। এছাড়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে পুলিশ। এই ঘটনাটি সমাজে নারীদের নিরাপত্তা এবং চরম অর্থনৈতিক অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তৈরি হওয়া অপরাধপ্রবণতাকে পুনরায় এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
