ভারতীয় কর্পোরেট দুনিয়ায় মিডল ম্যানেজমেন্টের জয়জয়কার, বেতন বাড়ছে হু হু করে!

ভারতীয় কর্পোরেট দুনিয়ায় মিডল ম্যানেজমেন্টের জয়জয়কার, বেতন বাড়ছে হু হু করে!

ভারতীয় কর্পোরেট জগতের নিয়োগ ও বেতন কাঠামোতে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর যখন শিরোনাম দখল করছে, ঠিক সেই সময়ে ভারতের নিয়োগ বাজার কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যম স্তরের কর্মীদের গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা আগামী কয়েক বছরের নিয়োগ চিত্র বদলে দিতে পারে।

নিয়োগের কেন্দ্রে মিডল ম্যানেজমেন্ট

ভারতীয় কর্মসংস্থানের বর্তমান ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এন্ট্রি লেভেলের চেয়ে অভিজ্ঞ মধ্যম স্তরের পেশাদারদের চাহিদাই এখন কো ম্পা নিগুলোর কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। জিনিয়াস এইচআরটেক-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৪৯ শতাংশ সংস্থা এই মধ্যম স্তরের পদগুলো পূরণে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। কৌশলগত অবস্থানে দক্ষ কর্মীদের বসিয়ে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এই নতুন নিয়োগ কৌশলের মূল উদ্দেশ্য। তবে নিয়োগের পরিধি নিয়ে কো ম্পা নিগুলো সাবধানী। ২৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করলেও, ৪৩ শতাংশ কো ম্পা নি শূন্য থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়োগ সীমাবদ্ধ রাখতে চায়।

বেতন কাঠামোতে ইতিবাচক বদলের পূর্বাভাস

দীর্ঘদিন স্থবির থাকা বেতন কাঠামোয় এবার পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। বেশিরভাগ কো ম্পা নি তাদের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক। ৪৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ৫ থেকে ১০ শতাংশ এবং প্রায় ৩৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশের বেশি ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগ মূলত অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখার একটি কৌশল। পাশাপাশি, ভারতের নতুন শ্রম আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও কো ম্পা নিগুলোকে তাদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনে বাধ্য করছে। এরই মধ্যে ৫৭ শতাংশ কো ম্পা নি নতুন নিয়মের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে বেতন কাঠামো পরিবর্তনের কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ছাঁটাইয়ের চ্যালেঞ্জ এবং কর্মী ধরে রাখার কৌশল

নিয়োগ বাড়লেও কর্পোরেট জগতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চহারে কর্মী ছাঁটাই এবং চাকরি বদলের প্রবণতা। বর্তমানে ৫৫ শতাংশ সংস্থায় কর্মী ছাঁটাইয়ের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, এই ছাঁটাইয়ের কবলে সবচেয়ে বেশি পড়ছেন মধ্যম ও উচ্চস্তরের কর্মীরা। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তরুণ প্রজন্মের ক্যারিয়ার সচেতনতা, কাজের নমনীয়তা এবং তুলনামূলক বেশি বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রবণতা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল বেতন বাড়ালেই হবে না, বরং কর্মীবান্ধব কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদী পেশাদারিত্বের পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে প্রতিভা ধরে রাখা কঠিন হবে।

দক্ষতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষকে সামনে রেখে কো ম্পা নিগুলো এখন আরও বেশি তথ্য-নির্ভর এবং সুচিন্তিত কৌশল গ্রহণ করছে। কেবল ডিগ্রি নয়, বরং ডিজিটাল দক্ষতা এবং পরিবর্তিত ব্যবসায়িক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতাকেই নিয়োগের মাপকাঠি হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যয় সংকোচনের চেয়ে দক্ষ জনবল ধরে রাখাকেই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে।

এক ঝলকে

  • ৪৯ শতাংশ কো ম্পা নি মধ্যম স্তরের পেশাদারদের নিয়োগের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
  • বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ১০ শতাংশ এবং ৩৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
  • নতুন শ্রম আইনের প্রভাবে ৫৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে।
  • বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
  • চাকরি পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে তরুণ কর্মীদের কাজের নমনীয়তা ও ক্যারিয়ারের উন্নতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • ২০২৬-২৭ সালের নিয়োগ পরিকল্পনা হবে পুরোপুরি তথ্য-নির্ভর এবং দক্ষতাভিত্তিক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *