ভারত এক মহান দেশ! কড়া বার্তার পর অবস্থান বদলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাসূচক মন্তব্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কित সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে ভারত ও আমেরিকার কূটনৈতিক মহলে টানাপোড়েন তৈরি হয়। একটি রেডিও শো-এর ভিডিও রিইপোস্ট ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত, যেখানে ভারতসহ বেশ কিছু দেশকে আসাম্মানজনক বিশেষণে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। তবে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে মার্কিন প্রশাসন দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে এবং জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে একটি মহান রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করেন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ভারতের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্টের রিইপোস্ট করা ওই ভিডিওতে রেডিও সঞ্চালক মাইকেল স্যাভেজ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করতে গিয়ে ভারতকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণधीर জয়সওয়াল এই মন্তব্যকে ‘তথ্যহীন, অনুচিত ও অশোভন’ বলে আখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই ধরনের মন্তব্য দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভাগ করে নেওয়া স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।
মার্কিন প্রশাসনের সাফাই ও বন্ধুত্বের বার্তা
ভারতের কঠোর অবস্থানের পর মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে একটি মহান দেশ মনে করেন এবং ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। যদিও ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঠিক কখন বা কোথায় করা হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউসের এই নমনীয় অবস্থান দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এই ঘটনার ফলে সাময়িকভাবে অস্বস্তি তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের স্পষ্টীকরণ ও ভারতের দৃঢ় অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা রক্ষা করেছে। মূলত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই এমন অনভিপ্রেত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- ভারত নিয়ে বিতর্কিত পোস্টের পর অবস্থান পরিবর্তন করে দেশটিকে ‘মহান’ বলে অভিহিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- একটি রেডিও শো-এর ভিডিওতে ভারতকে আসাম্মানজনক বিশেষণে উল্লেখ করায় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিবাদ জানায়।
- মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক অটুট রয়েছে।
- জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপট থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
