ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন সমীকরণ এবং ওয়াশিংটনে তিন দিনের বিশেষ বৈঠক

ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তিন দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। এই দলে কাস্টমস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ট্যারিফ জটিলতায় পাল্টেছে প্রেক্ষাপট
ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্যিক রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭७ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ সংক্রান্ত কিছু বিধান বাতিল করায় দেশটিতে ট্যারিফ সিস্টেমে বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে বর্তমানে বিশ্বের সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ফ্ল্যাট ট্যারিফ কার্যকর করেছে ওয়াশিংটন। এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা পিছিয়ে যায় এবং ভারতের জন্য প্রত্যাশিত বিশেষ সুবিধাগুলো এখন নতুন করে পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
আমেরিকার নতুন ট্যারিফ নীতির ফলে ভারতের আপেক্ষিক বাণিজ্যিক সুবিধা কিছুটা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, যেহেতু চুক্তিটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি, তাই বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে একে পুনরায় ড্রাফটিং বা নতুন করে সাজানোর সুযোগ রয়েছে। ট্যারিফ ছাড়াও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) পক্ষ থেকে শুরু হওয়া বিশেষ কিছু তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও ভারত এই বৈঠকে আপত্তি জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ওয়াশিংটনে ২০-২২ এপ্রিল ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বৈঠক চলছে।
- অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে কাস্টমস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
- আমেরিকার নতুন ১০ শতাংশ ফ্ল্যাট ট্যারিফ নীতির কারণে বাণিজ্য চুক্তির খসড়া নতুন করে তৈরির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
- ট্যারিফ সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির বিভিন্ন তদন্ত বন্ধের দাবি জানাবে ভারত।
