ভোটের মুখে ‘ভাতা যুদ্ধ’, বেকার ভাতা নাকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—কার দিকে ঝুঁকবে বাংলা?

বিধানসভা নির্বাচন: প্রতিশ্রুতির লড়াইয়ে কার গ্যারান্টিতে আস্থা বাংলার?
আর মাত্র সাত দিন। তারপরেই বাংলার ভাগ্য নির্ধারণী ব্যালট বক্স খুলবে। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তথা বিজেপির প্রতিশ্রুতি আর অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান প্রকল্পের ওপর ভরসা—এই দ্বিমুখী প্রচারের চাপে ভোটাররা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দোরগোড়ায়।
বিজেপির ইস্তেহার ও নতুন প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বিজেপি তাদের ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করে বড়সড় চমক দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঝোড়ো প্রচার ও সভার মাধ্যমে বিজেপি মূলত দুটি প্রধান লক্ষ্যবস্তুর দিকে নজর দিয়েছে—মহিলা ও যুব সমাজ। বিজেপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রায় দ্বিগুণ করা হবে। এছাড়া, বেকার সমস্যার সমাধানে মাসে তিন হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করে ব্যাপক সাড়া ফেলার চেষ্টা করেছে দলটি।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব ও প্রকল্পের সুরক্ষা
বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের পিংলায় জনসভা থেকে সাফ জানিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চিরস্থায়ী এবং সরকার ক্ষমতায় থাকলে এটি কেউ বন্ধ করতে পারবে না। নিজের সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা ইতিমধ্যেই বেকারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুটিকে সামনে এনে দাবি করছেন যে, রাজ্য সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকেই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাচ্ছে।
বঞ্চনার রাজনীতি বনাম জনমুখী প্রকল্পের সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াইটি এখন ‘নতুন প্রতিশ্রুতি’ বনাম ‘চলিষ্ণু প্রকল্পের’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বকেয়া টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে ভোটারদের মনে এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে, বিজেপির প্রতিশ্রুতি নিছক ভোটের প্রচার মাত্র। অন্য রাজ্যে বিজেপির অতীতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে মমতা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি চাইছে বেকার ভাতা ও কর্মসংস্থানের স্বপ্নের মাধ্যমে বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে।
এখন দেখার বিষয়, সাধারণ ভোটাররা কি বিজেপির ঘোষিত ‘ঝকঝকে’ গ্যারান্টিতে আস্থা রাখবেন, নাকি তৃণমূলের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও চালু প্রকল্পগুলোর ওপর ভরসা করবেন। আগামী সাত দিনের প্রচার যুদ্ধই ঠিক করে দেবে রাজ্যের পরবর্তী ক্ষমতার চাবিকাঠি কার হাতে থাকবে।
এক ঝলকে
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সংক্ষিপ্তসার:
- নির্বাচনের বাকী সময়: সাত দিন।
- বিজেপির মূল প্রতিশ্রুতি: মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করা, বেকারদের মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান।
- তৃণমূলের প্রধান দাবি: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের নিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যু।
- নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: একদিকে নতুন প্রতিশ্রুতির আকর্ষণ, অন্যদিকে বর্তমান জনমুখী প্রকল্পের ওপর নির্ভরতা।
